ভারতে সফরে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিঙ। মাত্র পঞ্চাশ ঘণ্টা আগে দিল্লি আর বেজিঙ থেকে একযোগে ঘোষণা। ঠিক যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান রয়েছেন চীন সফরে।
৩৭০ধারা বাতিলের পর থেকে ভারত, চীনের মধ্যে শীতল সম্পর্কের মাঝে আচমকা শি’র এই সফর রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ।
গত বুধবার ভারতের শীর্ষ কর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে থেকে কাশ্মীরের প্রসঙ্গ তুলবেন না, তবে রাষ্ট্রপতি শি বিষয়টি উত্থাপন করলে মোদী দিল্লির অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন।
পরে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রবিশ কুমার বলেছেন, ‘জম্মু কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, আর এনিয়ে ভারতের অবস্থান সঙ্গতিপূর্ণ এবং স্পষ্ট। চীন খুব ভালোই জানে আমাদের অবস্থান।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অন্য কোনও দেশের বক্তব্যের’ কোনও মানে হয় না।
অন্যদিকে, লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল করায় আপত্তি চীনের, তাদের বক্তব্য এটা ‘চীনের সার্বভৌমত্বকে ব্যাহত করেছে’। বেজিঙের দাবি, লাদাখের কিছু অংশ ভারতের সঙ্গে চলমান সীমান্ত বিতর্কের অংশ।
এর মাঝেই সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কাশ্মীরের উপর নজর রাখছেন বলে ইমরানকে আশ্বাসও দিয়েছেন শি। তিনি বলেছেন, কাশ্মীরে কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল এ বিষয়ে অবগত বেজিঙ। ৩৭০ বাতিলের সিদ্ধান্তকে বেজিঙ যে ভালো চোখে দেখছে না, এ বিষয়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানকে। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ঘরোয় বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন প্রতিবেশী দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান।
এর আগে, গতবছর এপ্রিলে ইউহানে মোদী আর শি’র মধ্যে এমন বৈঠক হয়েছিল। সরকারি সফর নয় বলে, এই বৈঠকে কোনও সমঝোতাপত্র, চুক্তি সইয়ের প্রশ্ন নেই। বৈঠক শেষে হবে না কোনও যৌথ বিবৃতি। এমনকি যৌথ সাংবাদিক বৈঠকের সম্ভাবনাও কম। তবে, চলতি বছরের মে মাসের পর থেকে এই নিয়ে তৃতীয়বার মুখোমুখি হতে চলেছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান।
তবে এই বৈঠক ‘দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে যে আলোচনা চালাচ্ছিলেন, তাকে জারি রাখা এবং ভারত-চীন সম্পর্কের গভীরতা বাড়াতে একটি সুযোগ তৈরি করবে।’ বলেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। বিপরীতে চীনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র হুয়া চিনইঙ এক-লাইনের নোটিসে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি শি জিনপিঙ শুক্রবার ও শনিবার ভারত ও নেপাল সফর করবেন।
সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানাতে ভোলেনি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা ভাণ্ডারির ‘আমন্ত্রণেই’ রাষ্ট্রপতি শি’র এই সফর।
বিদেশমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, চেন্নাইয়ের মালাপ্পুরমে দু’জনের এই বৈঠক হবে। প্রতিনিধি স্তরের পাশাপাশি একান্তে কথা বলবেন মোদী আর শি।
দু’দেশের মধ্যে যেসব বিষয়ে মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব রয়েছে, সেগুলি মেটানোর চেষ্টা করা হবে। নির্দিষ্ট কোনও অ্যাজেন্ডা না থাকলেও উঠতে পারে সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসে অর্থ জোগান ও মদত দেওয়ার মতো বিষয়।
এদিকে, এই মুহূর্তে চীন সফরে রয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বৈঠকের পর চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াঙ পাকিস্তানের ‘স্বাধীন সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ডের অখণ্ডতার সুরক্ষার সঙ্গেই বৈধ অধিকার এবং স্বার্থকে’ সমর্থন জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ভারতের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পাক প্রধানমন্ত্রীর সফর ‘আমাদের কাছে কোনও উদ্বেগের বিষয় নয়’, যোগ করেছে, ‘আমাদের বৈঠক শুধু একটি বিষয়ে নয়’। তবে লাদাখ প্রশ্নে চীন তার আপত্তির কথা আগেই জানিয়েছে।
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ১১ আগস্ট চীন সফরে গিয়েছিলেন, যদিও তাতে কোনও লাভ হয়নি। কাশ্মীরের বিষয়টি রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনার জন্য তোলে বেজিঙ। আলোচনা রুদ্ধদ্বার করার বিষয়টি সুনিশ্চিত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স, বৈঠকের পরে প্রকাশ করা হয়নি কোনও বিবৃতি।
ঘরোয়া বৈঠকের আগে নয়াদিল্লির একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারত নিজে থেকে ৩৭০ধারা বাতিলের বিষয়টি আলোচনায় আনবে না।
‘৩৭০ধারা, যে কোনও দেশই হোক না কেন, আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছি বিষয়টি সংবিধান ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত। সেকারণে এনিয়ে আলোচনার কোনও প্রশ্ন নেই।’ তবে যদি চীনের পক্ষ থেকে তোলা হয়, ‘যদি রাষ্ট্রপতি শি আরও ভালো করে বিষয়টি বুঝতে চান, আমরা বিষয়টি তুলব।’


