অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ।।
প্রকাশ্যে মাদক নেই। আছে ওপেনসিক্রেট। মাদক কাহিনী। মাদকের বিস্তার কোথায় নেই? হয়তো আছে সর্বত্রই। যেমন ভবানীপুরে। কিন্তু মাদক বিক্রেতা ধরপাকড়ের কথা কেউ জানেনা। বলতেও পারেন-নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকসূত্রগুলো যা বলেন, তা ভয়ংকর বিস্ময়কর। অভিযোগ মাদক বিক্রেতা না হয়েও যেখানে নিরীহ লোকজন ধরা পড়েছে, পকেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মাদক! বাড়ি ঘরে তল্লাসির নামে ভাংচুর হচ্ছে। আর ডিবি পুলিশের কথিত সোর্স জাহাঙ্গীর আসামীকে কাস্টডি থেকে ছাড়ানোর নামে উৎকোচ হিসাবে ডিবির নামে লাখ লাখ টাকা নিচ্ছে। শুধু টাকা নয়, আদায় করছে বস্তা বস্তা মাছ!
অন্যদিকে মাছ খেয়ে ডিবির সংশ্লিষ্ট মহল প্রশংসাও করেছেন। আর ঘুষের টাকা গননা করা হয়েছে ডিবি অফিসের কাছেই, বাইরে। গুনে নিয়েছেন জহির-হাবিব।
সত্য হলে ডিবির ভাবমূর্তি প্রশ্ন বিদ্ধ হতে পারে, তাই এ ব্যাপারে উর্ধতন পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষন জরুরী।
ঘটনা ফুলবাড়িয়া উপজেলার ১৩ নং ভবানীপুর ইউনিয়নের। কান্দানিয়া বাজার এলাকায় সম্প্রতি একাধিক ঘটনা ঘটেছে। যে ব্যাপারে পুলিশ সুপার ও ওসি ডিবি’র জরুরী দৃষ্টি আকর্ষণ এর দাবী জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী।
ভবানীপুরে ডিবি পুলিশের কতিপয় লোকজনের বিরুদ্ধে এবং তাদের কথিত সোর্স নামীয় তদবীরবাজদের নামে চলছে নানা গুজ্ঞন, গুরুতর অভিযোগ। সরজমিন অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য চাঞ্চল্যকর।
শাসক দলের স্থানীয় পর্যায়ের কর্মী জাহাঙ্গীর এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষায় – সে ডিবির সোর্স নামে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। আর লোক ধরিয়ে পরে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ডিবিতে তদবিরের নামে। এলাকাবাসীর ভাষায় এলাকায় ডিবি পুলিশের দালালী করছে জাহাঙ্গীরসহ আরো কতিপয় সুবিধাবাদী।
কান্দানিয়া এলাকার আতংক জাহাঙ্গীরের এর বাড়ি ছনকান্দা। ডিবি পুলিশের সোর্স বলে কথিত জাহাঙ্গীরের সাথে একাধিক ঘটনায়, কতিপয় ডিবি পুলিশের নামে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এর কথা জানান এলাকাবাসী। তবে হুমকী ও হয়রানির ভয়ে নাম প্রকাশ করতে চাননি।
এছাড়াও মোস্তাক, বাবুল, রুবেল এর বিরুদ্ধে রয়েছে একই ধরনের অভিযোগ। একজন অভিযোগকারী জানান “ হুদাই ধরে, হুদাই মামলা করে। ডিবি’রে টাকা খাওয়ায়”।
কেস স্টাডি,
প্রথমে ডিবি পুলিশের নামে ২ লাখ টাকা আর ২ বস্তা মাছ নেয় সোর্স জাহাঙ্গীর। আরো ১ লাখ টাকা চায়। জাহাঙ্গীর ২ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে ডিবি অফিসে যায়। লোকজনকে অফিসের বাইরে রেখে জাহাঙ্গীর একা ভেতরে যায়। এই ঘটনার ৩ দিন পর ডিবি পুলিশ কান্দানিয়া থেকে শামছুল হক মল্লিকের ছেলে শহীদ মল্লিককে গ্রেফতার করে। শহীদ নিজে ফিসারী ব্যবসা করে।
তার ২ স্ত্রী। মুক্তা মল্লিক জানান, তার স্বামী মাদক বিক্রেতা নন। ডিবি পুলিশ যখন তার বাড়িতে তল্লাসী করে ভাংচুর চালায় তখন ঘরে কোন মাদক পায়নি। সে মাদকের ব্যবসাও করেনা। অথচ শহীদ মল্লিকের নামে মাদক মামলা রয়েছে!
গ্রেফতার করা ২ আসামীর কাছ থেকে শহীদের নাম পায় বলে ডিবি জানায়। জানা যায়, যে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয় তাদের কাছ থেকে কোন মাদক পাওয়া যায়নি, অথচ পরে ১৭ টি ইয়াবা ও ২২ গ্রাম হেরোইন দিয়ে ডিবি মামলা দেয়।
সূত্র জানায়, এরা কেউ কোন শহীদের নাম বলেনি। অথচ শহীদের কাছ থেকে ডিবি’র কথিত সোর্স জাহাঙ্গীর ২ লাখ টাকা ও মাছ নেয় ডিবি’র নামে। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ডিবি’র এ এস আই জহিরুল ৬ জন ডিবি সদস্যকে নিয়ে অভিযান চালান। এরপরই জাহাঙ্গীর শহীদকে মামলা হবেনা বলে ডিবির জন্য টাকা ও মাছ নেয়। মারধর করবে ও মামলায় ফাঁসাবে বলে হুমকি দিয়ে ডিবি অফিসের সামনে থেকে ডিবি এক স্টাফ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নেয়। এ সময় ডিবির এক লোক মাছের প্রশংসা করেন। একথা বলেছেন ও জানেন অনেকেই। সূত্রমতে, এ ঘটনা সত্য হলে শুধু ডিবির সোর্স জাহাঙ্গীর নয়, ডিবির সাথে জাহাঙ্গীরের অপকর্মের যোগসাজস রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয় বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।
মহলটির দাবি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অন্ধকারে রেখে ভবানীপুরের কান্দানিয়য় ডিবি পুলিশের কতিপয় সদস্য ও ডিবির দালালীকরা সোর্স জাহাঙ্গীর সাধারন মানুষকে মাদকের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সেই সাথে প্রতারনার মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে।
দুই বস্তা মাছ ছাড়াও মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা উৎকোচ দিয়েও শহীদ মল্লিক এখন জেল হাজতে। তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলাটি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তার পরিবার। কেননা তার কাছ থেকে বা বাড়ি থেকে মাদক উদ্ধার করতে পারেননি ডিবি।
বরং শহীদ মল্লিকের বাড়ি তল্লাশীর সময় তার ঘর ভাংচুর ও ড্রয়ার থেকে ২৯৫০০ টাকা নেয় ডিবি। তল্লাশীর সময় সেখানে উপস্থিত হন শহীদ মল্লিকের এক আত্নীয় যার ভাই পুলিশ বিভাগে কর্মরত এএসপি। একথা শুনে ডিবি ঘর থেকে নেয়া ২৯৫০০টাকা ফেরৎ দিয়ে সাদা কাগজে দস্তখত নেয় বলে সূত্র জানায়।
কান্দানিয়ায় ডিবির জহিরুল, হাবিব প্রমূখরা সোর্স জাহাঙ্গীরকে নিয়ে যে মিশন চালাচ্ছে সে বিষয়টি ওপেনসিক্রেট। গল্প শুধু এটুকুই নয়, আরো ব্যাপক ও বিস্তৃত। সাধারন মানুষজনও জানান ঘটনা শুনেছেন। ৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ডিবি পুলিশের কতিপয় সদস্য নিয়েছেন, অথচ মাদক ব্যবসা না করেও একজন ফিসারীজ ব্যবসায়ী শহীদ মল্লিক মাদকের মিথ্যা মামলায় এখন জেল হাজতে। এ ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছে ডিবির কথিত সোর্স জাহাঙ্গীর। সাথে বির্তকিত হয়েছেন ডিবির অন্তত ৪ জন স্টাফ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ?


