বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলাক্ষিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাময়িক বহিস্কৃত সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকাকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার নিলাক্ষিয়া মোড় থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মোড় থেকে বের হয়ে বাজার প্রদক্ষিণ করে নিলাক্ষিয়া পাবলিক কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ। পরে সেখানেই খোকার বিরদ্ধে সমাবেশ করেন নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ সমাবেশে খোকার শাস্তির দাবিতে নানা স্লোগান এবং তাকে স্থায়ী ভাবে বহিস্কারের দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভ শেষে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নিলাক্ষিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন মিষ্টার,আওয়ামীলীগ নেতা হুমায়ুন কবীর,যুবলীগ নেতা লাভলু সরকার ও স্বেচ্ছাসবক লীগ সভাপতি শাহীন মিয়া প্রমূখ। এ সময় নিলাক্ষিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রতিটি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে নিলাক্ষিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন মিষ্টার বক্তব্যে বলেন,নিলাক্ষিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকা প্রতিটি ওয়ার্ড কাউন্সিলে টাকার বিনিময়ে কমিটি দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়। তার কারনে দলের সুনাম দারুনভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। তাই তাকে গত বুধবার রাতে সাময়িক ভাবে বহিস্কার করেছে উপজেলা আওয়ামীলীগ। সাময়িক বহিস্কার নয় তাকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করতে হবে। তিনি আরো বলেন,স্থায়ী বহিস্কারের মাধ্যমে দলকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে। দুষ্ট গরুর চেয়ে শুণ্য গোয়াল অনেক ভালো। তাছাড়া তিনি বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছেন। আপত্তিকর স্লোগান দিয়ে সভাপতির সম্মানহানি করেছেন। তাই খোকার স্থায়ী বহিস্কারের দাবিতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একাট্টা হয়েছেন।
উল্লেখ্য,বুধবার রাতে নিলাক্ষিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকাকে সাময়িক ভাবে বহিস্কার করে উপজেলা আওয়ামীলীগ। এর আগে সন্ধ্যায় সাইফুল ইসলাম খোকা বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন এবং বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দেন খোকার সমর্থকরা। সংবাদ সম্মেলনে খোকা দাবি করেন আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে বুধবার বিকালে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ তাকে মারধোর করেছেন।
তবে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি বলে জানায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়।


