নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
মারপিট,যৌতুক দাবি,প্রতিনিয়ত শারিরীক ও মানসিক ভাবে নির্যাতনের অভিযোগে স্বামী সিদ্দিক মিয়ার বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন স্ত্রী বিনা বেগম। যৌতুক লোভী স্বামীর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চান তিনি। সিদ্দিক মিয়া পৌর শহরের নামাপাড়া এলাকার মৃত বাদশাহ আলীর ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়,গত ৮ মাস পূর্বে পৌর শহরের নামাপাড়া (টিএন্ডটি) এলাকার মৃত বাদশাহ আলীর ছেলে সিদ্দিক মিয়ার সাথে পৌর শহরের চরকাউরিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার সাহাজ আলীর মেয়ে বিনা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পরেই স্ত্রী বিনা বেগমের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করে সিদ্দিক। যৌতুকের জন্য প্রায় সময়ই স্ত্রী বিনা বেগমকে মারপিট করতো সিদ্দিক। প্রতিনিয়তই শারিরীক ও মানসিক ভাবেও নির্যাতন চালাতো সে। নির্যাতন সইতে না পেরে গত চার মাস আগে সিদ্দিককে ভিভোর্স দেয় স্ত্রী বিনা বেগম। পরবর্তীতে এলাকার গন্যমান্য মানুষদের নিয়ে শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিনা বেগমকে স্ত্রী হিসেবে ফিরে পেতে চায় সিদ্দিক। আর কখনো যৌতুক দাবি ও যৌতুকের কারনে স্ত্রীকে নির্যাতন করবে না মর্মে শালিস বৈঠকে অঙ্গীকার করে সে। এক পর্যায়ে এলাকার মাতব্বরদের পরামর্শে পুনরায় শরিয়াহ মোতাবেক সিদ্দিকের সাথে বিয়ে হয় বিনার। পুনরায় বিয়ের পর কয়েকদিন ভালো থাকলেও আবারো নির্যাতন শুরু করে সিদ্দিক। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সিদ্দিক তার স্ত্রীর কাছে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে। যৌতুক দিয়ে অস্বীকৃতি জানালে উত্তেজিত হইয়া স্ত্রী বিনা বেগমকে প্রচন্ড মারপিট করে। এবং যৌতুক না দিলে অন্যত্র বিয়ে করে ঘর সংসার করিবে বলে হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে ঘরের বারান্দায় থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ছেড়ে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে ও বিনা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এই ঘটনায় ৪ মার্চ সিদ্দিক মিয়াকে আসামী করে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা করে বিনা বেগম।
বিনা বেগম বলেন,আমার আগের সংসারে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। আমার সন্তানদের নিজের সন্তানদের মত করে দেখভাল করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় আমি সরল বিশ্বাসে তাকে বিয়ে করেছিলাম। বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে সে আমার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে। তার ভয়ে সন্তানদের নিয়ে আমার নিজের বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাসায় থাকছি।
বিনা বেগম আরো বলেন,আমি আমার ছেলে মেয়েকে শেরপুর নবী নগর নুর মদিনা মাদ্রাসায় পড়তে দিয়েছি। গত ৮ মার্চ সে আমার ছেলে হাসান মাহমুদ বিজয় (১০) কে মাদ্রাসা থেকে অপহরন করে নিয়ে যায় সিদ্দিক। পরে আমার কাছে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। তাকে মুক্তিপন দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অপহরনের দুই দিন পর পৌর শহরের পাটহাটি মোড় থেকে আমার ছেলেকে উদ্ধার করি। এছাড়া যে কোন মুহুর্তে সে আমার ক্ষতি করিতে পারে। আমি আমার সন্তানদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি তার কবল থেকে মুক্তি ও তার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই।
অভিযুক্ত সিদ্দিক মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।


