নিজস্ব প্রতিনিধি ॥জামালপুরের বকশীগঞ্জে বাশেঁর বেড়া দিয়ে বন্ধ রাস্তাটি খুলে দেওয়া হয়েছে। দৈনিক সমকালে সংবাদ প্রকাশের পর শনিবার দুপুরে রাস্তাটি যাতায়াতের জন্য খুলে দেন বগারচর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোসাদ্দেকুর রহমান প্রমাণিক মাসুম। রাস্তাটির জন্য দীর্ঘ সাত মাস অবরুদ্ধ ছিলো বগারচর ইউনিয়নের উত্তর ধারারচর গ্রামের ৫ টি পরিবার।
জানা যায়,গত সাত মাস পূর্বে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের উত্তর ধারারচর গ্রামের বাসিন্দা নুর নবীদের সাথে প্রতিবেশী এনামুল হকের ঝগড়াঝাটি হয়। সামান্য ঝগড়াঝাটির কারনেই বাশেঁর বেড়া দিয়ে শত বছরের পুরনো রাস্তা বন্ধ করে দেয় এনামুল হক। ফলে ৫ টি পরিবারের নারী ও শিশুসহ প্রায় ৫০ জন সদস্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এতে চলাচলের ক্ষেত্রে সাত মাস সময় ধরে বৃদ্ধ, অন্তসত্ত্বা ও স্কুল পড়–য়াদের নিয়ে বিপাকে পড়ে পরিবারগুলো। সাত মাস যাবত অনেক পথ ঘুরে অতিকষ্ট করে চলাফেরা করে আসছিলেন তারা। এই ঘটনায় একাধিকবার গ্রাম্য শালিস বৈঠক হলেও অভিযুক্ত এনামুল হক তা মানেনি। তাই কোন সমাধানও হয়নি। গত শুক্রবার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় স্বচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। তাৎক্ষনিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন জাহান লিজা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান মোসাদ্দেকুর রহমান প্রমাণিক মাসুমকে নির্দেশ দেন। শনিবার উত্তর ধারারচর গ্রামে গিয়ে উভয়পক্ষের সাথে কথা বলে বন্ধ রাস্তাটি খুলে দেন চেয়ারম্যান। রাস্তা খুলে দেওয়ায় অবরুদ্ধ থেকে মুক্তি পায় ৫ পরিবার।
অবরুদ্ধ থাকা পরিবারের সদস্য গোপালপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী রিমি বেগম প্রতিক্রিয়ায় বলেন,রাস্তাটি অনেক পুরনো। ৭/৮ মাস পূর্বে বাশেঁর বেড়া দিয়ে আমাদের যাতায়াতের একমাত্র পথটি বন্ধ করে দেয় প্রতিবেশী এনামুল হক। এলাকার অনেক মানুষের কাছে গেলেও কোন প্রতিকার পায়নি। এতদিন অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলাম আমরা। অবশেষে দৈনিক সমকালে সংবাদ প্রকাশের পর ইউপি চেয়ারম্যান এসে রাস্তাটি খুলে দিয়েছেন। আমরা অনেক খুশি হয়েছি।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মোসাদ্দেকুর রহমান প্রমাণিক মাসুম বলেন,আমি সদ্য নির্বাচিত হয়েছি। বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। দৈনিক সমকালে সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনও আমাকে বিষয়টি অবহিত করেন। এর পরেই দুইজন ইউপি সদস্য,গ্রাম পুলিশ সদস্য ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের সাথে নিয়ে ওই এলাকায় যাই। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে দিই এবং বন্ধ রাস্তাটি খুলে দিয়েছি।


