মতিন রহমান। জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নতুন টুপকারচর গ্রামের দাদন ব্যবসায়ীর নির্মম নির্যাতনের শিকার আলোচিত সেই দরিদ্র কৃষক নান্ডা শেখ (৫৫) এর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নান্ডা শেখ মেরুরচর ইউনিয়নের নতুন টুপকারচর গ্রামের বাচ্চু শেখের ছেলে।
রোববার ভোরে বাড়ির পাশের ধান ক্ষেতে আহত অবস্থায় নান্ডা শেখকে উদ্ধারের পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে। রোববার বিকালে শেরপুর সদর হাসপাতালে নান্ডা শেখ মারা যায়।
জানা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের নতুন টুপকারচর গ্রামের সাধু শেখের ছেলে সফিকুল ইসলাম দাদন ব্যবসায়ী। চার বছর আগে দাদন ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলামের কাছ থেকে চড়া সুদে ১০ হাজার টাকা ধার নেন একই গ্রামের মৃত বাচ্চু শেখের ছেলে নান্ডা শেখ (৫৫)। ১০ হাজায় চার বছরে প্রায় ৪০ হাজার টাকা সুদ দেন নান্ডা শেখ। আসল ১০ হাজার টাকা থেকেও ৫ হাজার টাকা ফেরত দেন তিনি। এরপরেও ৫ হাজার টাকার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ দিতে থাকে দাদন ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম। করোনা দূর্যোগের কারনে ৫ হাজার টাকা ফেরত দিতে পারছিলেন না নান্ডা শেখ। এ কারণে নান্ডা শেখকে প্রকাশ্যে সবার সামনে উলঙ্গ করে দাদন ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম। টাকা দিতে না পারায় প্রকাশে বৃদ্ধ নান্ডা শেখকে মারধর করে দাদন ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম। এই ঘটনায় গ্রাম্য শালিস বৈঠক হয়। বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর দুইজনকে আটক করে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ। ৬ জনের বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা হয়। আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিনে আসে আসামীরা। জামিনে মুক্তি পেয়ে নান্ডার পরিবারের লোকজনকে নানা ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় দাদন ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম। এর পর রোববার ভোরে বাড়ির পাশে ধান ক্ষেত থেকে পরিবারের লোকজন গুরুত্বর আহত অচেতন নান্ডা মিয়াকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে শেরপুর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে মারা যায় নান্ডা মিয়া।
বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম সম্রাট জানান,লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


