নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শীলা সারোয়ার মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। উঠান বৈঠক,পথসভা,আলোচনা সভা করছেন নিয়মিত। দোয়া ও সমর্থনের জন্য ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। ভোটাররাও তার ডাকে সাড়া দিচ্ছেন স্বতস্ফুর্তভাবে। এই ইউনিয়নে সমাজসেবক শীলা সারোয়ারকে নৌকার মনোনয়ন দেয়া হলে জয় নিশ্চিত বলে মনে করেন সাধারন ভোটাররা।
জানা যায়, নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা না হলেও বকশীগঞ্জে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। চায়ের দোকান, হাট-বাজারে জমে উঠেছে সাধারণ ভোটারদের চায়ের আড্ডা। বাট্টাজোড় ইউনিয়নে কর্মী সমর্থকদের সাথে নিয়ে দিনরাত গনসংযোগে ব্যাস্ত সময় পার করছেন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শীলা সারোয়ার। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তার প্রচারনাই চোখে পড়ার মত। শীলা সারোয়ার যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন তখন অন্য প্রার্থীরা মাঠে নেই বললেই চলে। বেশ কয়েকজন প্রার্থী আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও শীলা সারোয়ার ছাড়া মাঠে কারো সরব উপস্থিতি নেই। তাই এই ইউনিয়নে এখন আলোচনার তুঙ্গে রয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী শীলা সারোয়ার। তাকে নিয়েই চলছে আগাম ভোটের হিসাব নিকাশ। নির্বাচনী মাঠে শীলা সারোয়ারের সরব উপস্থিতিতে ভোটারদের মাঝেও চাঙ্গা ভাব বিরাজ করছে। মনোনয়ন দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে তিনি।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত শীলা সারোয়ার জন্ম লগ্ন থেকেই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক গোলাম দস্তগীর গাজীর শ্যালকের স্ত্রী। শীলার স্বামীর বোন হাসিনা গাজী নারায়নগঞ্জের তারাবো পৌরসভার দুইবারের মেয়র। সমাজসেবক শীলা সারোয়ার রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। শীলা সারোয়ার বাট্টাজোড় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং ঐতিহ্যবাহী হাসিনা গাজী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বাট্টাজোড় বীরগাওঁ সোনাইতুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এলাকায় বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী হিসেবেও বেশ সুনাম রয়েছে তার। আগামী ইউপি নির্বাচনে বাট্টাজোড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পরিক্ষিত এই সৈনিক। তিনিই হবেন নৌকার কান্ডারী এমটাই আলোচনা চলছে সর্বত্র। শীলাও মাঠে নেমেছেন কোমর বেধেঁ। নৌকার পালে হাওয়া লাগাতে মাঠে থাকার ঘোষনা দিয়েছেন তিনি। নৌকা পেলে জয় নিয়ে ঘরে ফিরবেন শীলা সারোয়ার এমনটাই ধারনা সাধারণ ভোটারদেরও।
চেয়ারম্যান প্রার্থী শীলা সারোয়ার বলেন, অর্থ বিত্তের প্রতি আমার কোন লোভ লালসা নেই। আমার একটাই লোভ মানুষের সেবা করা। কারন আমি জানি মানব সেবাই পরম ধর্ম। আজীবন মানুষের সেবা করতে চাই। তাইতো আসন্ন বাট্টাজোড় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছি। চেয়েছি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন। দল যদি আমাকে মূল্যায়ন করে দলীয় মনোনয়ন দেয় তাহলে আমার বিশ্বাস ইউনিয়নবাসী বিপুল ভোটে আমাকে তথা নৌকাকে জয় যুক্ত করবে। তিনি আরো বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক আমি। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাদার অব হিউমিনিটি দেশরতœ শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছি। আসল কথা হচ্ছে আমি বাট্টাজোড় ইউনিয়ন বাসীর জন্য কিছু করতে চাই। তাদের শাসক নয়,সেবক হতে চাই। আমি হতদরিদ্র, গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এই ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবো। আমি দেখিয়ে দিতে চাই ইচ্ছা থাকলেই উন্নয়ন সম্ভব। তাইতো বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত যে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সেই কাজে সামান্য অংশীদারিত্ব হতেই বাট্টাজোড় ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষনা দিয়েছি। দল যদি সবকিছু বিবেচনা করে আমাকে মূল্যায়ন করে দলীয় প্রতীক দেয় তাহলে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগনকে সাথে নিয়ে নৌকার পালে হাওয়া লাগিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছবো ইনশাআল্লাহ । পরিশেষে বাট্টাজোড় ইউনিয়নের সকল জনসাধারণের দোয়া ও ভালোবাসা চাই। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের সেবা করতে চাই। এটাই আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
তিনি জনগনের উদ্দেশ্যে আরো বলেন,আপনারা জানেন আমি সব সময় অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। করোনা দূর্যোগে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌছেঁ দিয়েছি। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে আসছি। যাতে করে আরো বেশি বেশি মানুষের সেবা করতে পারি তাই আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাট্টাজোড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছি। আপনাদের চাকর হিসেবে ৫ বছর কাজ করতে চাই। আপনাদের সেবক হতে চাই। আশা করি আপনারা আমার পাশে থেকে একটি বারের জন্য সূযোগ দিবেন আপনাদের সেবা করার জন্য। আপনারা যদি আমাকে সূযোগ দেন আমি কথা দিচ্ছি বাট্টাজোড় ইউনিয়ন হবে বকশীগঞ্জ উপজেলার মধ্যে একটি মডেল ইউনিয়ন। আপনারা কিন্তু জানেন চেয়ারম্যানের টাকায় আমার সংসার চালাতে হবে না। গরীব মানুষের হক মেরে আমাকে খেতে হবে না। যতটুকু পারি ব্যাক্তিগত ভাবে অসহায় মানুষের মাঝে দান খয়রাত করি। আমি আপনাদের এটুকু কথা দিতে পারি আমি যদি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই সরকারি যত বরাদ্ধ আছে তা শতভাগ সঠিক বন্টন হবে। কাজের জন্য কাউকে একটি টাকাও দিতে হবে না। কোন কাজের জন্য চেয়ারম্যানের পিছে পিছে ঘুরতে হবে না। আমার দরজা ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে আপনাদের জন্য। আসলে মনের ইচ্ছা শক্তিই সব। আমি দেখিয়ে দিতে চাই কাজের জন্য জনগনকে চেয়ারম্যানের কাছে আসতে হয় না। চেয়ারম্যান নিজেই জনগনের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা পৌঁছে দিবে। আপনারা শুধু আমাকে একটি বার সেবা করার সূযোগ দিন।
নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন নৌকা প্রত্যাশী শীলা সারোয়ার


