নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
দুরবর্তী ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে ভোট কেন্দ্র স্থানান্তর অথবা নতুন ভোট কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডবাসী দীর্ঘদিন যাবত এই দাবি জানিয়ে আসছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদনও করেছেন তারা। আসন্ন ইউপি নির্বাচনের আগেই ৯ নং ওয়ার্ডের কেন্দ্রটি স্থানান্তর অথবা নতুন করে আরেকটি কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান,বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের ৯টি গ্রাম নিয়ে নয় নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। এই ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় ওয়ার্ড এটি। ভোটার সংখ্য প্রায় ৫ হাজার। দাড়িয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ওয়ার্ডের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জানকিপুর নতুন বাসকান্দা, জানকিপুর মির্ধাপাড়া, পুরাতন বাশঁকান্দা ও ভাটিয়া পাড়া গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ ওই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়। ভোট কেন্দ্র থেকে ওই গ্রামগুলোর দুরত্ব প্রায় ২/৩ কিলোমিটার। এছাড়াও ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার একমাত্র সড়কটির অবস্থাও বেহাল। দুরবর্তী ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় অনেকেই ভোট কেন্দ্রে যেতে চান না। এছাড়াও ভোট কেন্দ্রের আশে পাশে অবস্থিত গ্রামের কতিপয় ব্যক্তি পেশি শক্তির মাধ্যমে নিবার্চনের পরিবেশ নষ্ট করার পায়তারা করেন সব সময়। যে কারনে সাধারন ভোটাররা সব সময় আতঙ্কিত থাকেন। ছাড়াও ভাটিয়াপাড়া ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তাটি জরাজীর্ন হওয়ায় ভোট গ্রহনের সময় নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যাতায়াতে দারুন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো দেখে ওই ওয়ার্ডের ৯ টি গ্রামের মাঝামাঝি কোনও স্থানে ভোট কেন্দ্রটি স্থানান্তর অথবা নতুন করে আরেকটি কেন্দ্র স্থাপনের জোড়ালো দাবি জানান এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৩ বারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম লিচু বলেন, স্থানীয় ভোটাররা যাতে করে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন সেই পরিবেশ তৈরির জন্য ভোট কেন্দ্র স্থাপন অথবা নতুন করে আরেকটি কেন্দ্র স্থাপনে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এলাকাবাসীর এই যৌক্তিক দাবি মেনে ভোট কেন্দ্রটি স্থানান্তর কিংবা নতুন করে আরেকটি ভোট কেন্দ্র স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটা প্রত্যাশা করেন তিনি।
উল্লেখ্য,২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এই ভোট কেন্দ্রে ব্যপক সহিংসতা হয়। কেন্দ্র দখল করতে গিয়ে অগ্নি সংযোগসহ ব্যাপক ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এখনো চলমান আছে।


