মতিন রহমান।। জামালপুরের বকশীগঞ্জে ভূয়া জন্ম নিবন্ধনের সনদ প্রদানকারী উদ্যোক্তা মনিকা পারভিনের শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ,মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যেমে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি প্রদান করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
বৃহস্পতিবার (২৮ জানয়ারি) দুপুরে বকশীগঞ্জ পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড বটতলা মোড়ে ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবক ও এলাকাবাসী এই বিক্ষোভ,মানববন্ধন ও স্বারকলিপি প্রদানের আয়োজন করে।
জানা যায়, ২০২১ শিক্ষাবর্ষে বকশীগঞ্জ উপজেলার উলফাতুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করেন। আবেদনের পর লটারিতে বিজয়ী হয় ৬০ জন শিক্ষার্থী। এর পর তারা সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে বকশীগঞ্জ উলফাতুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ভর্তির পর জন্মনিবন্ধন সনদে নানা ত্রুটি থাকার কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষ ১১ জন ছাত্রীর ভর্তি বাতিল করেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ অপেক্ষামান তালিকা থেকে অন্য ১১ জন ছাত্রীকে আবারও ভর্তি করে নেন।এই ঘটনা গণমাধ্যেমে প্রচার হলে এলাকাবাসী মনিকা পারভিনের কাছে নেওয়া তাদের সন্তানের জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে যাচাই করলে অসংখ্য ভুয়া জন্ম নিবন্ধন ধরা পড়ে।

এই ঘটনায় জন্মনিবন্ধন প্রদানকারী বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের উদ্যোক্তা মনিকা পারভীনসহ জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাছে স্বারকলিপি প্রদান করেন। একই সময় তারা স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান,মেয়র ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে স্বারকলিপি প্রদান করেন।
এসময় বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের উদ্যোক্তা মনিকা পারভিনের কাছে জন্মনিবন্ধন নিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়া সহস্রাধিক সাধারণ মানুষ অংশ গ্রহন করেন। বক্তব্য রাখেন প্রতারণার শিকার সুলাইমান কবির,তওহিদ মেহেদী,আব্দুল হাকিম,সাইফুল ইসলাম, খাইরুল ইসলাম, ইসাহাক আলী, মুসলিমা বেগম, ফেরদীসী জান্নাত প্রমুখ।

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুন মুন জাহান লিজা জানান, স্বারকলিপি পেয়েছি তাৎক্ষনিক সঠিক তদন্তের জন্য দু্ই জন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


