মতিন রহমান।। জামালপুর বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে উলফাতুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির লটারীতে জিতেও ভর্তি হতে পারেনি ১১ জন ছাত্রী।
জানা যায়, বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের উদ্যোক্তা মনিকা পারভীনের কাছে জন্মনিবন্ধন নিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন উপজেলার ১১ জন ছাত্রী। ফলে লটারিতে জিতেও তারা বকশীগঞ্জ উলফাতুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেনি। জন্ম নিবন্ধনে ত্রুটি থাকার কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের ভর্তি করতে পারেনী।
২০২১ শিক্ষাবর্ষে উলফাতুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করলে লটারিতে সিথি রাণী মোদক, নুসরাথ জাহান মিথিলা, সুচিত্র সাহা, লামিয়া খাতুন বুশরা, ইভা মনি, ফেরদৌস জান্নাত স্মৃতি, ইফখাইরুন্নাহার, ইশরাত জাহান রিপা, ইশাফা খাতুন, নূর জাহান ও অর্পিতা সাহাসহ ৬০ জনের নাম উঠে। ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর তারা উলফাতুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে আসে। তখন যাছাই বাছাইয়ে উল্লেখিত ১১ জন ছাত্রী কর্তৃক প্রদত্ত জন্মনিবন্ধন নম্বরধারী ব্যাক্তির নামের সাথে তাদের নামের গড়মিল দেখা দেয়। তাই স্কুলকর্তৃপক্ষ তাদের ভর্তি করেননি। তাদের পরিবর্তে অপেক্ষামান তালিকা থেকে ১১ জন ছাত্রী ভর্তি করেছেন।
বকশীগঞ্জ উলফাতুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান জানান, ভর্তি বিষয়ক লটারিতে বিজয়ী সবারই শিক্ষা সংক্রান্ত সনদ ও জন্মনিবন্ধন সনদ অনলাইনে যাছাই বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে সুচিত্রা সাহা কর্তৃক প্রদত্ত জন্মনিবন্ধন নম্বরধারীর নাম লামিম ইসলাম রুদ্র, ইশফা খাতুন কর্তৃক প্রদত্ত জন্মনিবন্ধনধারীর নাম আতিকুল ইসলাম, অর্পিতা সাহার জিন্মনিবন্ধনধারীর নাম জগনাথ চৌধুরি, সিথি রানী মোদকের জন্মনিবন্ধনধারীর নাম রায়হান মিয়া, লামিয়া খাতুর বুশরার জন্মনিবন্ধনধারীর নাম সোহাগ মিয়া, ইভা মনির জন্মনিবন্ধনধারীর নাম লুৎফর রহমান বাবর নামে জনৈক ব্যাক্তির নাম পাওয়া গেছে। তারা সবাই পুরুষ। একইভাবে অপর ৫ জন ছাত্রীর জন্মনিবন্ধন নম্বরধারী ব্যাক্তির সাথে অবেদিত ছাত্রীর নামের মিল নেই। তাই উল্লেখিত ১১ জন ছাত্রীকে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি।
এব্যাপারে বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের উদ্যোক্তা মনিকা পারভীন জানান, জন্ম সনদ গুলো আমি দেই নাই। অভিভাবকরা বাহির থেকে জন্ম সনদ নিয়ে আমার উপর দোষ চাপাচ্ছে। এর জন্য আমি দায়ি না।


