নিজেস্ব প্রতিনিধি।। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে জামালপুরের মাদারগঞ্জে প্রকৃত গৃহহীনদের জন্য ১২১টি বাড়ী নির্মানের জন্য সরকারীভাবে ২ কোটি ৬৯ লাখ ১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।প্রতিটি বাড়ীর জন্য ২ কক্ষবিশিষ্ট শোবার ঘর একটি রান্নার ঘর ও করিডোরসহ বাথরুম নির্মানে প্রতিটি বাড়ীর জন্য ১লাখ ৭১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বাড়ীগুলো নির্মানের জন্য কোন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়নি। বাড়ীগুলি তৈরি কাজে সরাসরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দায়িত্ব নিয়ে কাজ গুলি করছেন।

উপজেলার ৬নং আদারভিটা ইউনিয়নে গজারিয়ায় ১৫টি পরিবারকে প্রাথমিকভাবে চুড়ান্ত করা হয়েছে। প্রকল্পে প্রতিটি ঘরের মালিকের উপরে নিজ ঘরের ভিটা তৈরি করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভুগিরা জানিয়েছেন। প্রতিটি বাড়ীর ভিটা তৈরি করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা মাটি কাটা বাবদ ব্যয় হচ্ছে। হতদরিদ্র ও গৃহহীনেরা মাটি কাটার জন্য ঋণ করে টাকা নিয়ে ঘরের ভিটা তৈরি করছে। তবে জানা যায়- বরাদ্দকৃত ঘর কেটে যাবার ভয়ে সুদে ঋণ নিয়ে ঘরের ভিটা তৈরি করছে অনেকে।
তালিকা ভুক্ত রোকেয়া বেগম এই প্রতিবেদককে বলেন, মাটি কাটার জন্য ইতিমধ্যে ১৫ হাজার টাকা সুদেও উপর নিয়ে আংশিক মাটি কেটেছি। এভাবে শিলা, আলাতন, রোকন, লিটন এই প্রতিবেদককে বলেছেন, আমাদের নামে সরকার ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু ঘরের ভিটা তৈরি করার জন্য যে, টাকা প্রয়োজন সে টাকা সুদেও উপর নিয়ে ভিটা তৈরি করলে আমরা পড়ে ঐ টাকার সুদ দিতে বিপাকে পড়ব।
ইতিমধ্যে ঐ ১৫টি বাড়ি নির্মানকরারজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল মুনসুর ইট ক্রয় করার জন্য মিতু ব্রিকসে গিয়ে ইট ভাটার মালিক আবুল কালাম এর নিকট থেকে ৩ লাখ ২নং ইট ক্রয় করার জন্য চুক্তি করেন। এর মধ্যে গজারিয়া প্রকল্পে ১০ হাজার ২নং ইট নিয়ে যাওয়া হয়।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ২নং ইটগুলি ঐ প্রকল্প থেকে সরে নেওয়ার জন্য ইট ভাটার মালিক আবুল কালামকে চাপ প্রয়োগ করেন। অপরদিকে ইট ভাটার মালিক আবুল কালাম জানান- উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল মুনসুর নিজে আমার ইট ভাটায় এসে ২নং ইট প্রতিহাজার ৬ হাজার ৫০০শত টাকায় ক্রয় করেন। ১নং ইটের দাম প্রতিহাজার ৮ হাজার ৫০০শত টাকা। এখন তিনি আমাকে ঐ ২নং ইট ফেরৎ আনার জন্য বারবার চাপ প্রয়োগ করছেন। ঐ প্রকল্পে ১৫টি ঘরের মধ্যে ১টি ঘরের দেয়াল নির্মান করা হয়েছে। নির্মান অবস্থায় দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল মুনসুরের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন- কোন প্রকল্পে ২নং ইট নেওয়া হয়নি। এসব বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান বেলালের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান যাদের নামে ঘর বরাদ্দ হয়েছে তারা ঘরের ভিটার মাটি কাটার টাকা দিবেনা। আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ১৫টি বাড়ীর মাটি কর্ম সৃজন প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে মাটি কেটে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান আরো বলেন এই প্রকল্পে কোনো প্রকার অনিয়ম বা দূর্নীতি হলে সে যেই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।


