নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ নানা অনিয়ম,স্বজনপ্রীতি ও পকেট কমিটি দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে পৌর শহরের মালিরচর মৌলভীপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারেনটেনডেন্ট মাওলানা আবদুস সাত্তারের বিরুদ্ধে। যে কারনে পর দুই বার নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত হয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে,মাদ্রাসায় শুন্য দুটি পদে নিয়োগ বাণিজ্যের জন্য মনগড়া মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠন করেন সুপার আবদুস সাত্তার। ম্যানেজিং কমিটিতে এমন তিনজনকে অভিভাবক সদস্য করা হয়েছে যাদের কোন সন্তান মাদ্রাসায় নেই। হয়েছে। মনগড়া কমিটির সাথে আতাত করে মাদ্রাসার নামে জমি বিক্রি ও মাদ্রাসার জমি ভাড়া দিয়ে ভাড়ার টাকা আত্বসাতেরও অভিযোগ রয়েছে সুপারের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুপার।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ১ জন আয়া ও ১ জন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আয়া পদে ৩ জন ও নিরাপত্তাকর্মী পদে ৫ জন প্রার্থী আবেদন করেন। গত ১৩ নভেম্বর বকশীগঞ্জ উলফাতুন্নেছা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষার আগেই মোটা অঙ্কের নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে নিরাপত্তাকর্মী পদে সোহেল মিয়া ও আয়া পদে আজমনি আক্তারকে মনোনীত করেন সুপার আবদুস সাত্তার। বিষয়টি ফাসঁ হলে অন্য আবেদনকারীরা পরীক্ষা বর্জণ করেন। ফলে বন্ধ হয়ে যায় নিয়োগ পরীক্ষা। এলাকাবাসী লিখিত ভাবে প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ও সহকারী আইসিটি কর্মকর্তার সমন্বয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি তদন্ত শুরুর আগেই মাদ্রাসা সুপার নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধের তিন দিনের মধ্যে তড়িঘরি করে আবারো পুন: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের কিছু না জানিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর জামালপুর বঙ্গবন্ধু স্কুল এন্ড কলেজে আবারো নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তা অবগত হলে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধের নির্দেশ দেন। ফলে দ্বিত্বীয় বারের মত নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে মালিরচর মৌলভীপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবদুস সাত্তার বলেন,তদন্ত কমিটি হলেও কমিটি তদন্ত কাজ শুরু করেননি। তাই নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিলো। তাছাড়া আমাার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়।
এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান,এখনো তদন্ত শুরু হয়নি। তাই চিঠি দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ছরুয়ার আলম বলেন,সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার নির্দেশে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ হয়েছে। মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


