নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ বকশীগঞ্জ পৌর শহরের মালিরচর মৌলভীপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারেনটেনডেন্ট মাওলানা আবদুস সাত্তারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসায় আয়া ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের জন্য তিনি কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যে কারনে চারজন আবেদনকারী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেননি। ফলে বাতিল হয়েছে নির্ধারিত তারিখের নিয়োগ পরীক্ষা। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ না নেয়া আবেদনকারীরা এই অভিযোগ করেন।
জানাগেছে,মালিচর মৌলভীপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় ১ জন আয়া ও ১ জন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের জন্য গত সেপ্টেম্বরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আয়া পদে ৩ জন ও নিরাপত্তাকর্মী পদে ৫ জন প্রার্থী আবেদন করেন। গত ১৩ নভেম্বর বকশীগঞ্জ উলফাতুন্নেছা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষার আগেই মোটা অঙ্কের নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে নিরাপত্তাকর্মী পদে সোহেল মিয়া ও আয়া পদে আজমনি আক্তারকে মনোনীত করেছেন সুপার আবদুস সাত্তার এমন অভিযোগে অন্যপ্রার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করেন। ফলে বাতিল হয়ে যায় নিয়োগ পরীক্ষা। সুপারের মনোনীত প্রার্থীদেরকে চাকুরি দিতে পরীক্ষা বাতিলের তিনদিনের মধ্যে তড়িঘরি করে আবারো পুনঃ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ ব্যাপারে পরীক্ষা বর্জনকারী নিরাপত্তাকর্মী পদে রাজু আহম্মেদ,শহিদুর রহমান লিপন,আজিজুর রহমান ও আয়া পদে শাহীনা বেগম জানান, আমরা জানতে পেরেছি মোটা অঙ্কের নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন মাদ্রসার সুপার আবদুস সাত্তার। তার মনোনীত প্রার্থীকে নিয়োগ দিতেই সাজানো পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। তাই আমরা পরীক্ষা বর্জন করি। এরপরও সুপার তার মনোনীত ব্যাক্তিদেরকে নিয়োগ দিতে পায়তারা করছেন।
এ ব্যাপারে মালিরচর মৌলভীপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবদুস সাত্তার বলেন,সকল আবেদন কারীকেই পরীক্ষার জন্য লিখিত ও মৌখিক ভাবে অবগত করা হয়েছিলো। কিন্তু কি কারনে তারা পরীক্ষায় অংশ নেয়নি তা জানিনা। তাছাড়া আমার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়টি সঠিক নয়।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ছরুয়ার আলম বলেন, পরীক্ষার দিন কয়েকজন আবেদনকারী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন না করায় নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করা হয়। সুপারের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়ে আমি অবগত নই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


