সুমন ভৌমিকঃ গত ১০ আগষ্ট সোমবার ফুলপুর থানার অন্তর্গত ৮ নং রুপসী ইউনিয়নের খিলা গ্রামে সন্ধ্যায় এক জুয়ার আসরে তারাকান্দার পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে ১০/১২ টি হোন্ডা সহ একজনকে আটক করা হয়। এনিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয় থানার সীমানা নিয়ে।
সূত্র জানায়, যে জায়গাটিতে জুয়া চলছিল তা ফুলপুর থানার খিলা গ্রামে তারাকান্দা থানার সীমান্তে। কিন্তু দেখা যায় অভিযান পরিচালনা করে তারাকান্দা থানা পুলিশ। এনিয়ে এলাকায় জনমনে কৌতুহল জাগে। ফুলপুর এলাকায় তারাকান্দা থানা পুলিশের অভিযানের পর রহস্যজনক কারনে আটককৃত হোন্ডাগুলো মাঝ পথে শিমুলিয়া বাজার এলাকায় ফেলে আসে এবং আটক ব্যক্তিকেও ছেড়ে দেয় তারাকান্দা থানা পুলিশ। এ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। জনশ্রুতি রয়েছে জুয়া তুমি কার ফুলপুর না তারাকান্দা’র!
করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও দরিদ্র গোষ্টির মানুষের মাঝে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার যখন সরাসরি মাঠে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন, ঠিক সেই সময় অসাধু ব্যক্তিরা কোন ব্যক্তির সবুজ সংকেতে জুয়ার আসর বসিয়ে লাভবান হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র, যুবক সমাজ সহ সাধারণ জনগণ।
ফুলপুর থানা এলাকার ১০ টি ইউনিয়নে চলছে জুয়ার মহোৎসব। এই সব জুয়ার বোর্ডগুলোতে তাস দিয়ে, কড়ি দিয়ে ও ওয়ানটেন জুয়া খেলা হয় এবং বিভিন্ন বিডারগণ জুয়াগুলো পরিচালনা করে। এছাড়াও জানা যায়, এই সব জুয়ার আসরে মাদক ব্যবসাও জমজমাট।
১ নং কাশিগঞ্জ ইউনিয়নের বিধবাবাজার, কুমারপাড়া ও বাঁশাটী কান্দাপাড়ায় জুয়া চলছে, জুয়ার আয়োজক বিডার-টুটন ও ফজলুল হক ফজলু গং। ২ নং রামভদ্রপুর ইউনিয়নের সিঙ্গিমাড়ি চর ও দাড়াকপুরে জুয়া চলছে, জুয়ার আয়োজক বিডার-ইয়াসিন ও আমির আলী গং। ৩ নং ভাইটকান্দি ইউনিয়নের সখল্যাড় মোড়, নারিকেলি বাজার ও বাহাদুরপুর ফিসারীতে জুয়া চলছে, জুয়ার আয়োজক বিডার-বিল্লাল, সুলতান, জীবন ও সবদুল গং। ৪ নং সিংহেশ্বর ইউনিয়নের বালিচান্দা, ডোবারপাড় ও পুড়াপুটিয়ায় জুয়া চলছে, জুয়ার আয়োজক বিডার-জালাল, রুহুল ও জলিল গং। ৫ নং ফুলপুর ইউনিয়নের কাজিয়াকান্দা ডোবারপাড় ও নগোয়া বাজারে জুয়া চলছে, জুয়ার আয়োজক বিডার-জামাল ও আতিক গং। ৬ নং ইউনিয়নের দিউ গ্রামে জুয়া চলছে, জুয়ার আয়োজক বিডার-হামিদুল, লিটন ও গফুর গং। ৭ নং রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের পাটতলা ও মাইচাপুর ফিসারীতে জুয়া চলছে, জুয়ার আয়োজক বিডার-তাজুল, শহিদ, সত্তর ও রুহুল গং। ৮ নং রুপসী ইউনিয়নের খিলা কাতলী ও রুপসী বাজারের পশ্চিম পাশে জুয়া চলছে, জুয়ার আয়োজক বিডার-বিপুল, রুহুল, জালাল ও সাত্তার গং। ৯ নং বালিয়া ইউনিয়নের বাজারের পাশে ফিসারীতে জুয়া চলছে, জুয়ার আয়োজক বিডার-নুরুল হক ও লাল মিয়া গং। ১০ নং বউলা ইউনিয়নের সুতারপাড়া ফিসারীতে জুয়া চলছে, জুয়ার আয়োজক বিডার-বাবুল মিয়া ও রুস্তম গং।
সূত্র জানায়, ফুলপুর থানা এলাকায় পুলিশকে ম্যানেজ করে ১০টি ইউনিয়নে জুয়ার মহোৎসব চলছে। প্রতিদিন বিডারগণ প্রতিটি জুয়ার বোর্ড থেকে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পুলিশের নামে দিয়ে থাকে। এতে দেখা যায় প্রতিদিন লাক্ষাধিক টাকা উঠে পুলিশের নামে।
জুয়ার বিরোধীতাকারী সমাজের অনেকেই জানান, স্থানীয় পুলিশকে ম্যানেজ করে ফুলপুরে জুয়ার রাজত্ব কায়েম করছে । স্থানীয় প্রভাবশালী ও পুলিশের ভয়ে তারা কিছু করতে পারছে না। তারা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
ফুলপুর থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজীর কাছে ফুলপুর থানার অন্তর্গত ৮ নং রুপসী ইউনিয়নের খিলা গ্রামে তারাকান্দা থানা পুলিশ জুয়ারি ধরতে অভিযান পরিচালনা সম্পর্কে জানতে চাইলে, তিনি প্রশংসা করে বলেন এটা ভাল কাজ। তাহলে কি ফুলপুর থানা পুলিশের এই ভাল কাজটি করার সমর্থ নেই!
ফুলপুরে ১০ টি ইউনিয়নে জুয়া চলছে এই সম্পর্কে জানতে চাইলে, ফুলপুর থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী বলেন আমি অবগত নই। এছাড়া তিনি বলেন, ফুলপুর থানা পুলিশ কিছুদিন আগে অভিযান পরিচালনা করে জুয়ারিদের গ্রেফতার করেছে।


