মতিন রহমান ॥ বকশীগঞ্জে হত্যা মামলায় নিরপরাধ মানুষকে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে আইরমারী এলাকাবাসী এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মেরুরচর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জেহাদ, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ, সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, সাধুরপাড়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন খানঁ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত হোসেন লাজু,পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক আগা সাইয়ুম,আ’লীগ নেতা হাসমত আলী,আবুল হোসেন মাষ্টার,সমাজসেবক জাকির হোসেন প্রমূখ।

জানাযায়,গত ০২.০৭.২০১৮ ইং বকশীগঞ্জ পৌর শহরের মালিরচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের ভাড়াটে মোটর সাইকেল চালক আবু বক্কর নুরী (৪৮) ইসলামপুর উপজেলার টুংরাপাড়ার পুবের বন্দ বন্দে আলী ব্রীজের পাশে খুন হয়। ইসলামপুর থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তাহমিনা বেগম বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় এজাহার নামীয় আসামী সাধুরপাড়া ইউনিয়নের ক্ষেতারচর বটতলা গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে বেপারী ও অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জনকে আসামী করা হয়। মামলায় ১ জনকে আসামী করা হলেও নিহতের ভাগ্নে মেরুরচর ইউনিয়নের আইরমারী গ্রামের গোলাম মোহাম্মদ ওরফে কালো গাজীর ছেলে মামলাবাজ হাকিম আলী ও মৃত ছামিউল হকের ছেলে মজিদ আলী পুর্ব শত্রুতার জের ধরে আইরমারী গ্রামের শহিদুর রহমান মাষ্টার ও খবির উদ্দিন খোকা মাষ্টারসহ একই গ্রামের ১০ জনের নাম পুলিশের কাছে দেয়। সেই সাথে ওই তালিকা সে সাংবাদিকদের কাছেও দেয়। মুলত দীর্ঘদিন যাবত শহিদুর রহমান মাষ্টার ও খবির উদ্দিন খোকা মাষ্টারসহ ওই ১০ জনের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হাকিম আলী ও মজিদ আলীর দ্বন্ধ চলে আসছিলো। তাই পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মামার লাশকে পুজিঁ করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই ওই হত্যা মামলার সাথে তাদের জড়ানোর চেষ্টা করে হাকিম আলী ও মজিদ। ওই মামলার নামীয় আসামী বেপারি ও নিহতের ভাতিজা লাল মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে। লালমিয়ার ভাষ্যমতে গ্রেফতারের পর হাকিম আলী ও মজিদের প্ররোচনায় তার দেয়া তালিকা অনুযায়ী ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দী দেয় সে। যাহাতে মুসা আলী, বেলা মিয়া ও মোশারফ হোসেনের নাম রয়েছে। উল্লেখ্য,পরবর্তী সময়ে লাল মিয়া আদালতে তার জবানবন্দী প্রত্যাহারের আবেদন করেন। দীর্ঘদিন পর মোশারফকে ঢাকার সাভার থেকে গ্রেফতার করা হয়। মোশারফের ভাষ্যমতে ১ দিনের রিমান্ডে নিয়ে হাকিম ও মজিদের উপস্থিতিতে শহিদুর মাষ্টার,খোকা মাষ্টারসহ ১০ জনের নাম বলার জন্য ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করা হয়। মোশারফ বলে আমি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেইনি। এর কিছুদিন পর মুসা,ইজ্জত আলী ও জয়নালকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মুসাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়। মুসার ভাষ্যনুযায়ী রিমান্ডে নিয়ে আমার কাছ থেকে সাদা কাগজে থানায় একটি ও আদালতে একটি স্বাক্ষর নেয়া হয়। পরবর্তীতে আমার স্বাক্ষরিত ওই কাগজে শহিদুর রহমান মাষ্টার,খোকা মাষ্টার,দানেছ আলী,ইজ্জত আলী, মোশারফ,বেলা মিয়া,আবুল হোসেন, জয়নাল ও হান্নানের নাম অর্ন্তভূক্ত করা হয়। আমি বিষয়টি জানতে পেরে কারাগারে থাকাবস্থায় আদালতের মাধ্যমে তা প্রত্যাহারের আবেদন জানাই। মুসার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেয়া সাদা কাগজে যে জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তা সম্পূর্ন, মনগড়া, বাানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। যাহা এলাকাবাসী প্রমান করিবে। প্রথমত শহিদুর মাষ্টার ১৮.০৬.২০১৮ ইং হইতে ১২.০৭.২০১৮ ইং পর্যন্ত পরীক্ষা জনিত কারনে জামালপুর পিটি আই এ উপস্থিত ছিলেন। অথচ ১৬৪ ধারায় মুসার জবানবন্দির বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে উপরোক্ত তারিখে শহিদুর মাষ্টার আইরমারী গ্রামে খুনের পরিকল্পনার মিটিং করেছেন। যাহা ডাহা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রকৃত পক্ষে নিহত আবু বক্কর নুরীর ভাগ্নে হাকিম আলী ও মজিদ আলী পূর্ব শত্রুতার জের হিসেবে আইরমারী গ্রামের ১০ জন সহজ সরল মানুষকে হয়রানি করে আসছে। প্রকৃতপক্ষে ওই হত্যা মামলার সাথে শহিদুর রহমান মাষ্টারগংদের কোন সম্পর্ক নেই।

মামলায় ষড়যন্ত্রমূলক নিরীহ মানুষকে হয়রানি বন্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,আইজিপি’র হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। সেই সাথে মামলাটির সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে সিআইডি অথবা পিবিআই এ হস্তান্তর করে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতারের দাবি জানান। একই সাথে হাকিম আলী ও মজিদ আলীর দেয়া তালিকা অনুযায়ী যাদেরকে আসামী করার চেষ্টা করা হচ্ছে সত্য উদঘাটন না করে তাদের নাম চার্জশীটে অর্ন্তভূক্ত না করা এবং নিরপরাধ মানুষকে হয়রানির মুল হোতা হাকিম আলী ও মজিদ আলীর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


