সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহ জনগণের আস্থা ও ভালবাসার প্রতীক ডিবি ওসি শাহ্ কামাল আকন্দ পিপিএম(বার)। জেলা গোয়েন্দা সংস্থায় যোগদানের পর গত ১৪ মাসে মাদক উদ্ধার ও অপরাধ দমনে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন এবং জনগণ পেয়েছে স্বস্তির নিঃশ্বাস। শাহ্ কামাল আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অব্যাহত প্রচেষ্টা রাখায় অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন এবং জনগন সুফল ভোগ করছে।
সুযোগ্য পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেনের (অতিঃ ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) নির্দেশনায় ওসি শাহ্ কামাল গত সেপ্টেম্বর/২০১৮ থেকে অক্টোবর/২০১৯ এই ১৪ মাসে মাদক বিরোধী অভিযান ও অপরাধ দমনে প্রশংসনীয় ইনিংস খেলেন। এই ১৪ মাসে ডিবি পুলিশ প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক ইয়াবাসহ মাদক উদ্ধার, সংশিষ্ট ব্যবসায়ী, বিপুল সংখ্যক মাদকসেবী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রবাজ, চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, জুয়ারী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে। গুলিসহ অস্ত্র উদ্ধার ও চোরাই মোবাইল দ্রæত উদ্ধারে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে।
সূত্র জানায়, অস্ত্রবাজ সন্ত্রাসী, ডাকাত, মাদক ব্যবসায়ী, সিএনজি-অটো চোর ও মাদক গডফাদার পুলিশের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে ১৬ অপরাধী নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে প্রায় অর্ধশত পুলিশ সদস্য।
সূত্র থেকে জানা যায়, গত বছরের ৩ অক্টোবর ডিবি ওসি হিসাবে শাহ কামাল আকন্দ ময়মনসিংহে যোগদান করেন। সুযোগ্য পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদোন্নতিপ্রাপ্ত) শাহ আবিদ হোসেন আইসিটি বিভাগকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এবং সার্বক্ষনিক তদারকি, পরামর্শ ও কঠোর নির্দেশনায় মাদক, অস্ত্রবাজ, সন্ত্রাসী, চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারে বিশাল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন এবং প্রশংসিত হয়েছেন। গত ১৪ মাসে তিনি ৫৬ হাজার ৮৩৮ পিচ ইয়াবা, ৮ কেজি ১৩৯ গ্রাম হেরোইন, ৪৫ কেজি ৭৫০ গ্রাম গাজা, ৩৩৯ পিচ ফেন্সিডিল, ২০০ লিটার চোলাই মদ, ৮০ বোতল বিয়ার, ৫শ নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করেন। এছাড়া সরকারী সম্পদ কাঁচা রাবার পাচারকালে ৫ হাজার কেজি রাবার উদ্ধার, ৫৪টি জাল ডলার উদ্ধারসহ ডলার প্রতারকচক্র, ছিনতইকারী ও ১০ চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেন। এই সময়ে অপরাধীচক্রের হাত থেকে অপহৃত ৩১ ভিকটিমকে উদ্ধার করে অপরাধীদের গ্রেফতার করে। এছাড়া বিভিন্নস্থান থেকে অভিনব কায়দায় চুরি হওয়া ২১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার, ৩৬২টি মামলা নিষ্পত্তি এবং নিবারণ ম‚লক ঘটনা নিষ্পত্তি হয়েছে ২৭০টি। এছাড়াও এ সময়ে ডিবি পুলিশ প্রায় ৫ শতাধিক জুয়াড়ি গ্রেফতার, ৩ শতাধিক হারানো মোবাইল জিডি মূলে উদ্ধার করে।
এছাড়া অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন সময়ে বিদেশী পিস্তল, রিভলভার ও পাইপগানসহ ১৬টি অস্ত্র, গুলি ও কার্তুজ এবং অর্ধশত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় অর্ধশত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এছাড়া ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন হয়েছে ১৬টি।
এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ও রহস্যজনক হত্যা মামলা, অজ্ঞাত লাশের পরিচয় সনাক্ত, গ্রেফতারকারীদের চিহিৃতকরণ, অপরাধীদের গ্রেফতার, গণধর্ষণ ও খুনের মামলার রহস্য উদঘাটনসহ কমপে ১৭টি মামলার রহস্য উদঘাটন, লাশের পরিচয় উদঘাটন ও খুনীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে ডিবি পুলিশ। পাগলা থানার আলমগীর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও ৭জন গ্রেফতার, একই থানার অটো রিক্সা চালক সুজন হত্যা মামলায় ২জন গ্রেফতার ও একজনের আদালতে স্বীকারোক্তি, ভালুকা থানার সাইফুল হত্যা অন্যতম। অপরদিকে ত্রিশাল থানার ধান ব্যবসায়ী আজিজুল হত্যাকান্ডে খুনী চক্রকে ফেনী থেকে গ্রেফতার এবং তাদের দেখানো মতে চট্টগ্রামের পাহাড়ের নীচ থেকে ভিকমিট আজিজুলের লাশ উদ্ধার, ব্যবহৃত সিএনজি ও ভিকটিমের লুন্ঠিত মোবাউল উদ্ধার, ফুলবাড়িয়া থানার কিশোর হাফেজ সুহান হত্যা মামলায় চারজন গ্রেফতার, চার্জসীট দাখিল, কোতোয়ালী মডেল থানার আলোচিত যুবলীগ নেতা রাসেল হত্যার রহস্য উদঘাটন ও খুনীদের গ্রেফতার উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ময়মনসিংহের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানীতে ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ ১৯জনকে গ্রেফতার এবং মুক্তাগাছায় প্রায় কোটি টাকা মূল্যের সরকারী বিদ্যুতের তার চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন, চোরাই তার জব্দ এবং কৌশলে ৫জনকে গ্রেফতার ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় বইয়ে যাওয়া ময়মনসিংহের পাটগুদাম ব্রীজ মোড় থেকে ট্রলি ব্যাগে ভর্তি মাথা, হাত, পা বিহীন বডি (দেহ) উদ্ধার মামলার কয়েকদিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন ও খুনীদের গ্রেফতারে সারা পুলিশ বিভাগের পাশাপাশি ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশ প্রশংসার দাবিদার। ডিবির ওসি জানান, ট্রলি ব্যাগে দেহ পাওয়ার ঘটনাটিকে সবার আগে প্রাধান্য দিয়ে কুড়িগ্রাম থেকে হাত, পা ও মাথা উদ্ধার করা হয়। একটি চিরকুটের সূত্র ধরে কুড়িগ্রাম, পূর্বধলা, তারাকান্দা ও গাজীপুরে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে চার খুনীকে গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখিত খুনীদের নিজেদেরকে হত্যার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ায় চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত এই মামলাটির রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। এ জন্য তিনি পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেনসহ জেলা ও ডিবি পুলিশের সকল সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থার অফিসার ইনচার্জ শাহ্ কামাল আকন্দ পিপিএম(বার) বিচক্ষণতা, মেধা ও প্রতিনিয়ত শ্রম দিয়ে চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন, দ্রুত অজ্ঞাত হত্যা মামলার রহস্য উম্মোচন, মাদকে জিরো টলারেন্স রাখা, অস্ত্রবাজ ও হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার আওতায় আনার সফলতার স্বরুপ তিনি ময়মনসিংহ জেলায় ও রেঞ্জে বার বার শ্রেষ্ঠ হচ্ছেন।


