কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের চাকুরি করলেও তিনি এখন আইনজীবী। বাজিতপুর উপজেলার আয়নারগোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ সাঈফ উরফে সাঈফ আব্বাস। তিনি বাজিতপুর উপজেলার দিলালপুর ইউনিয়নের বাহেরনগর গ্রামের বাসিন্দা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ফেলে রেখে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ নিয়ে তিনি এখন আইনজীবী হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য। এ বিষয়ে মোঃ সাঈফ উরফে সাঈফ আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করলে কিভাবে সরকারি চাকুরী করার পরও আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত আছেন উত্তরে তিনি জানান, দেখেন সরকার আমাকে চাকরী দিয়েছে। আমি চাই সরকার আমার চাকরিটা নিয়ে নিক, আমি নিজে থেকে চাকরীটা ছাড়তে চাচ্ছি না।
এদিকে বিদ্যালয়ে ক্লাস না নিয়েও নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন। এ বিষয়ে বাজিতপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, সরকারি কোন চাকুরিজীবী একসাথে দু’টি লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকতে পারেন না। আমি তার বিষয় তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।
সরেজমিনে আয়নারগোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে কাগজপত্রে চারজন শিক্ষক কমর্রত রয়েছেন। কিন্তু এই চার শিক্ষকের মধ্যে মো. সাঈফ অনুপস্থিত রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে। অথচ শিক্ষক হিসেবে প্রতি মাসের বেতন তুলছেন স্বাভাবিক শিক্ষকদের মতোই। ঘটনার সত্যতা জানতে কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টে গিয়ে দেখা যায় অ্যাডভোকেট সাঈফ আব্বাস উকিলের পোশাক পরিহিত অবস্থায় মামলা পরিচালনা করছেন। তার পরিচিতি নং- ৫৩২।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ ফেরদৌস জানান, যদি সরকারি চাকুরিজীবী হয়ে অন্য কোন পেশায় জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাঈফ যদি আসলেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে থাকেন তাহলে তার উকালতির সনদ স্থগিত করা হবে।
সরকারি চাকুরি করেও তিনি এখন আইনজীবী


