কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের হাওরে চলতি বর্ষা মৌসুমে নৌ ভ্রমণ, আনন্দ ভ্রমণের আড়ালে পুলিশের নাকের ডগায় চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ।
করিমগঞ্জ উপজেলার চামটা বন্দর, বালিখলা ঘাটে গিয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে ৪/৬ জনের একটি দল ৮০০/৯০০ টাকা দিয়ে ৩ ঘন্টার জন্য একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া করে। নৌকা নিয়ে তারা বর্ষার পানিতে হাওরে যায়। সেখানে ২ জন নৌকার ছৈয়ের ভিতরে উভয় দিক থেকে চাদর দিয়ে ঢাকা নৌকায় অবস্থান করে। অন্যরা উভয় দিকে যাতে চাদর উড়ে না যায় সেজন্য তারা ধরে রাখে। এদের কাজ শেষ হলে একই প্রক্রিয়ায় অন্যরা নৌকার ছৈয়ের ভিতরে প্রবেশ করে। নৌকাটি কাছাকাছি অন্য আরেকটি নৌকা এসে পড়লে নৌকার উপর দাঁড়িয়ে থাকা যুগলেরা উচ্চ স্বরে গান বাজনা করতে থাকে। ফলে অপর নৌকার যাত্রীরা তাদের অপকর্ম বুঝতে পারে না। চামটা বন্দর থেকে নৌকা নিয়ে নাগচিনি নদী পার হয়ে ইটনা উপজেলার দিকে গভীর হাওরে চলে যায়। অপরদিকে বালিখলা ঘাট থেকে ঘোড়াউত্রা নদী দিয়ে গভীর হাওরে যায়।
একটি অসমর্থিত সূত্র জানায়, যারা সঙ্গী নিয়ে নৌবিহারে যান না তাদের জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে সুন্দরী যৌনকর্মীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে জনপ্রতি ১ হাজার ৫শত টাকা গুনতে হয়। এ ধরণের নৌকাগুলো বেশিরভাগ অংশ কৌশলে পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখে নৌকা মালিকেরা। বিষয়টি চামটা বন্দরের ফাঁড়ির পুলিশ ও নৌপুলিশ জানলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয় না। কারণ হিসেবে এই সমস্ত নৌকার নিয়ন্ত্রণকারী স্থানীয় সরকারী দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। চামটা বন্দরের একজন দোকানদার (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) এ প্রতিনিধিকে জানান, বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। আমরা মুখ খুলতে পারি না। শুধু নিরব দর্শকের মতো চেয়ে চেয়ে দেখি। তাছাড়াও বালিখলা ঘাটে গুনধর ইউনিয়নের মেম্বার ইনু মিয়া এ প্রতিনিধিকে জানান, প্রতিবাদ করে কোন লাভ নেই। কারণ এই অবাধে যৌনকর্মীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারা। তারা মাসে একটি টাকা ভাগ বাটুয়ারা পেয়ে থাকেন। তাছাড়া একজন যৌনকর্মী রাতে দেহ ব্যবসায় নামেন। তারা সন্ধ্যার পূর্বেই নির্দিষ্ট নৌকাগুলিতে অবস্থান করে এবং খদ্দেরকে তুলে গভীর হাওরে চলে যায়। সারারাত আনন্দ ফুর্তি করার পর ভোরে ঘাটে এসে তাদের নামিয়ে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন সুলতানাকে অবহিত করলে তিনি জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই তবে খতিয়ে দেখব এবং ঘটনার সাথে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।
কিশোরগঞ্জের হাওরে আনন্দ ভ্রমণের নামে অসামাজিক কার্যকলাপ


