বদরুল আমীনঃ পুলিশ সুপার হিসেবে শাহ মোঃ আবিদ হোসেন ময়মনসিংহে যোগদান করেন গত বছর ১৪ আগষ্ট ২০১৮ তারিখে। আজ তার এক বছর পূর্ণ হলো। এই এক বছরে জাতীয় নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, ইউপি নির্বাচন, পুলিশ রিক্রুটিং এ শতভাগ সচ্ছতার সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন ময়মনসিংহের এসপি শাহ মোঃ আবিদ হোসেন বিপিএম (বার)।
ময়মনসিংহে অপরাধ দমনে গত এক বছরে গড়ে তুলেছেন দূর্গ। সৃষ্টি করেছেন অনেক রেকর্ড। আর সাফল্য, সে তো বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ার! তিনি যখন ময়মনসিংহে যোগদান করেন, তখন ছিল জেলায় ক্রান্তিকাল। মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীরা অপশক্তির ছত্রছায়ায় দাপটের সহিত বুক ফুলিয়ে ময়মনসিংহে চলাফেরা করতো। এসপি শাহ আবিদ যোগদানের পর সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়ায়, সেই অপরাধীদের অনেকেই ভয়ে জেলা ছেড়ে পালিয়ে চলে গেছে। এই চৌকস কর্মকর্তা তার দায়িত্বশীল কর্মনিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের গুণে বার বার সাফল্যের নজির রেখে অপরাধ দমনে একাধিক বার ময়মনসিংহ রেঞ্জে শীর্ষ স্থান দখল করে রেখেছেন। তিনি জেলায় সর্বদা সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রেখেছেন। তিনি ময়মনসিংহে শতভাগ সাফল্যের সহিত এক বছর পার করেছেন এবং সাফল্যের দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন।
গত এক বছরে আলোচিত সাফল্যগুলো হলো।
সম্প্রতি পুলিশ রিক্রুটিং-এ শতভাগ সচ্ছতায় নিয়োগ হয়েছে। বিনা অর্থে মেধা তালিকায় পুলিশের চাকরি পেয়েছে প্রায় অর্ধশত হতদরিদ্র। এছাড়াও ফল বিক্রেতা, রিক্সা চালক ও দিন মজুরের সংখ্যা ছিল অনেক। হতদরিদ্র চাকরি প্রাপ্তরা অনেকেই জায়নামাজে বসে এসপি শাহ মোঃ আবিদ হোসেনের জন্য দোয়া করেছেন। এটি নজির বিহীন।
কোন বিশৃংখলা ছাড়াই জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন, ইউপি নির্বাচন ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্টু ভাবে সম্পন্ন করেছেন। বিশ্লেষকগণ এটিকে নজির বিহীন ঘটনার তকমা দিয়েছেন।।
তিনি ১৬ লাখ টাকা ব্যায়ে পুলিশী জিমনিশিয়াম নির্মাণ করেন এবং পুলিশ নারী কল্যান সমিতির (পুনাক) ঘর নির্মাণ করেন। এছাড়াও পুলিশ লাইন্সে হলরুম নির্মাণ করেন। তিনি ঈদে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন উপহারও দিয়ে থাকেন।
গত এক বছরে তিনি দুটি ঈদ পার করেছেন সফলতার সাথে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে রোডে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে পুলিশী চৌকি বসিয়ে যানজট নিরসন করেছেন। ময়মনসিংহ জেলায় হাইরোড ও বিভিন্ন রোডে পুলিশী বিশেষ টহল ব্যবস্থা রাখায় ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি আসা লোকদের দূর্ভোগ পোহাতে হয়নি। জেলায় পুলিশী বিশেষ টহল ব্যবস্থা রাখার ফলে অপরাধীরা কোন অপরাধ সংঘটিত করার সুযোগ পায়নি।
এসপি শাহ আবিদ অপরাধ দমনে খুবই কঠোর। ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্রবাজসহ মোট ১০ জন সন্ত্রাসী বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। চাঞ্চল্যকর পৃথক পৃথক গণধর্ষণ মামলার দুই আসামী পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। এসপির নির্দেশনায়, খুনের অজ্ঞাত নামা খুনিদের সনাক্ত করে গ্রেফতার, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার, সেই সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার, চুরি ছিনতাই প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছেন জেলা পুলিশ, ময়মনসিংহ। তিনি ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থাকে জেলায় সংঘটিত কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে ও শীর্ষ অপরাধীদের দমনে বিশেষ কাজে লাগিয়েছেন। অপরাধ দমনে জনগণের আশার প্রতিফলন ঘটায় তিনি বার বার আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছেন।
ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কম্পাউন্ডে শক্তিশালী চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের রুখতে কোন কর্মকর্তা পুলিশী অভিযান চালাতে চিন্তা করতো না। কিন্তু এসপি শাহ আবিদ এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম। তিনি চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুলিশী অভিযানের নির্দেশনা দেন এবং পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে। সবাইকে অবাক করে দেখিয়ে দিলেন “অপরাধী তো অপরাধী” ছাড় দেওয়ার প্রশ্ন নহে। আইন সবার উর্ধে।
তিনি চাঞ্চল্য যুবলীগ নেতা রাসেল হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতারের জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কঠোর পদক্ষেপের ফলে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী পদধারী সাবেক ছাত্রনেতা হওয়ার পরেও প্রধান আসামীসহ অন্যান্য পলাতক আসামীরাও গ্রেফতার হয়। আসামীরা হত্যা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেয়।
তিনি ময়মনসিংহবাসীর মন জয় করে নিয়েছেন। ইতিপূর্বে অন্য কোন কর্মকর্তা এমন “বিশ্বাস, আস্থা ও সাফল্য” অর্জন করতে সক্ষম হননি। তিনি সবসময় রয়েছেন বিতর্কের উর্ধে। চৌকস ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে তার ভূমিকা ময়মনসিংহবাসীর কাছে প্রশ্নাতীত গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।


