29.2 C
Munich
Tuesday, May 26, 2026

জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে ১১ ছাত্রীকে নষ্ট করে ‘বড় হুজুর’

Must read

হুজুরের কথা শোনা ফরজ, না শুনলে গুণাহ হবে। জাহান্নামে যেতে হবে হুজুরের কথা না শুনলে- এমন আরও নানা ধরণের কথা বলে গত তিন বছরে ১১ মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন ‘বড় হুজুর’ মোস্তাফিজুর রহমান। ২৭ জুলাই এই বড় হুজুরকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভূইগড় এলাকা থেকে আটক করে র‌্যাব-১১।

গত ৬ বছর ধরে ওই ‘বড় হুজুর’ ওই এলাকায় দারুল হুদা মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে তিনি তার দুই মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রীসহ বসবাস করতে। মাদরাসাটি আবাসিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত বিভিন্ন বয়সের ছাত্রীদেরকে বিভিন্ন সময় ‘জাহান্নামের ভয়’ ভয় ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করতেন তিনি। সব মিলিয়ে গত তিন বছরে তার লাম্পট্যের শিকার হয়েছেন ১১ জন ছাত্রী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কাছে তা স্বীকারও করেছেন ওই ‘বড় হুজুর’।

রোববার (২৮ জুলাই) দুপুরের দিকে র‌্যাব-১১ সাংবাদিক সম্মেলনে র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন ওই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, আটক মোস্তাফিজুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে এবং বিভিন্ন ভাবে তথ্যানুসন্ধানে র‌্যাব নিশ্চিত হয়েছে, সে গত তিন বছরে ১১ ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে। এরমধ্যে তার যৌন-আগ্রাসনের প্রতিবাদ করা এবং তার কথা মতো যৌনকর্মে লিপ্ত হতে না চাওয়া ও তার লাম্পট্য প্রকাশ করার কথা বলাতে, কয়েকজন ছাত্রীকে মিথ্যা অপবাদে মাদরাসা থেকেও তাড়িয়ে দিয়েছে ওই ‘বড় হুজর’।

আলেপ উদ্দিন জানান, ছাত্রীদের ধর্ষণ করার ক্ষেত্রে মোস্তাফিজুর রহমান ধর্মটাকে ব্যবহার করতেন। তিনি ছাত্রীদেরকে ভয় দেখাতেন- হুজুরের কথা না শুনলে জাহান্নামে যেতে হবে, গুনাহ হবে এবং হুজুরের সাথে সহবাস করা জায়েজ- এমন আরও অনেক ফতোয়া জারি করে তার সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন ছাত্রীদের।

তিনি আরও জানান, কথিত ওই বড় হুজুরের মাদরাসাতে তার নিকট আত্মীয়ের ৮ বছর বয়সী একটি মেয়ে পড়তেন। সেই মেয়েকেও তিনি ধর্ষণ করেছেন। ভুক্তভোগি ও ছাত্রীর মা-বাবার এমন অভিযোগ ছিলো। এ সম্পর্কে মোস্তাফিজুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি তা অকপটে স্বীকারও করেন।

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে আটক ওই ‘বড় হুজুর’র বরাত দিয়ে র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, তিনি নিজেই একটি হাদিস তৈরি করেন। এবং সে হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে ছাত্রীদের বোঝাতেন অভিভাবক ও সাক্ষী ছাড়াও বিয়ে হয়। এভাবে সে কয়েকজনকে বিয়ে করতেন এবং সহবাস শেষে তিনি নিজেই ফতোয়া জারি করতেন ‘তালাক’ হয়ে গেছে জানিয়ে কোনো একটি অপবদা দিয়ে ওই ছাত্রীকে মাদরাসা থেকে বের করে দিতেন।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article