আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, যারা ধর্মকে পুঁজি করে জঙ্গিদের মত গুজব সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। এখানে কেউ গুজব রটিয়ে সফল হবেন না।
বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় ড. আবদুর রাজ্জাক এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা মানবতায় বিশ্বাস করি। ধর্মান্ধতার স্থান এখানে নেই।
সারাদেশের বন্যাপরিস্থিতি ও বন্যাদুর্গতদের কল্যাণে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম তুলে ধরে ড. রাজ্জাক বলেন, আওয়ামী লীগ টিমভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সারাদেশের বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। আহামরি কিছু করতে নানা পারলেও নেতাকর্মীরা কিন্তু বানভাসী মানুষের পাশে রয়েছেন। এটা জানান দেয়ার দেওয়ারও চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, অথচ বিএনপির আবাসিক নেতা রিজভী প্রতিদিনই অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ বানভাসী মানুষের পাশে নেই। চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, এত বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, কিন্তু কোথাও কেউ না খেয়ে মরেনি। সিডর ও আইলাসহ নানা সংকটে দুর্গত মানুষের পাশে ছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু বিএনপিকে তো পাওয়া যায়নি। গত ১০ বছরে বিএনপি কোথাও ত্রাণ কার্যক্রম করেছে প্রমাণ দিতে পারবে না। বিএনপির অফিস থেকে দেওয়া বিবৃতি মিথ্যাচার।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ প্রসেঙ্গ কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রিয়া সাহা ডিজেপিয়ারস শব্দের অর্থ জানেন? নিশ্চয়ই জানেন না। তিনি ট্রাম্পের কাছে যে সংখ্যার কথা বলেছেন, সেটা প্রমাণ করতে পারবেন?
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনোদিন সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেয়নি। সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। দেশ গঠনেও নানা দফতরে নানা ধর্মের মানুষ মিলে কাজ করছি। এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে চলেছি।
বিভিন্ন নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে তৃণমূলে ভুল বোঝাবুঝি এবং ছোটখাটো দ্বন্দ্ব-কোন্দল তৈরি হয়েছে। বিদ্রোহের বিষয়ে সতর্ক করাসহ তৃণমূলের নানা সমস্যা সমাধান করে সুসংগঠিত করতে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা টিম করে দিয়েছেন। এই টিমগুলো কাজ করছে। এ সভাও তারই অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সামনে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। এ নির্বাচনেই মূলত প্রমাণ হবে মহানগর আওয়ামী লীগ কতটা সুসংগঠিত ও শক্তিশালী। মহানগরে ওয়ার্ড ও থানার কমিটি নিয়ে অনেকের ক্ষোভ আছে, ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এগুলোও আলোচনায় আসতে পারে। তবে এ নিয়ে কাউকে আঘাত করে কিছু বলা যাবে না। ভুলত্রুটি থাকতেই পারে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান সিরাজ, আমিনুল ইসলাম আমিন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।


