রাজধানীর পল্টন ও তেজগাঁও এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) রাত ১১টার পর বোমা দুটি পাওয়ার পর বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বোমা দুটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। দুটি বোমাই শক্তিশালী ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। বোমা নিষ্ক্রিয়করণে ব্যবহৃত হয় রোবট। পরীক্ষার পর বোমাগুলো কতটা শক্তিশালী বা কী ধরণের, তা জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এগুলো রাখা হয়েছিলো বলে ধারণা পুলিশের।
এ বিষয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ডিসি প্রলয় কুমার জোয়ারদার বলেন, আমাদের বোম ডিসপোসাল ইউনিট দুটি জায়গাতেই রেসপন্স করেছে। এখান থেকে পর্যাপ্ত আলামত গ্রহণ করেছি।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে পল্টন মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে একটি কার্টন দেখেন পুলিশ সদস্যরা। ওই কার্টনের ভেতর তার প্যাঁচানো একটি বস্তু দেখে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে ডাকা হয়। পরে তারা গিয়ে ওই বোমার বিস্ফোরণ ঘটান।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের খামারবাড়ি প্রান্তে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে একটি বস্তু দেখা গেলে সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাত দেড়টার দিকে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা সেখানে কাজ শুরু করেন।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার আনিসুর রহমান জানান, রোবট ব্যবহার করে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে রাত ৩টার দিকে ওই বোমার নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এরই মধ্যে বোমাগুলো কে বা কারা রেখেছিলো এবং কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে পুলিশকে লক্ষ্য করে দুটি বোমা হামলার ঘটনা ঘটে, যে গুলোর তদন্ত করছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।
এর মধ্যে ৩০ এপ্রিল গুলিস্তানে ট্রাফিক পুলিশকে লক্ষ্য করে হাতবোমা ছোড়া হয়। দুই ট্রাফিক পুলিশ এবং কমিউনিটি পুলিশের এক সদস্য ওই ঘটনায় আহত হন।
আর ২৬ মে রাতে মালিবাগে এসবি অফিসের সামনে এসবির একটি পিকআপে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। হঠাৎ ওই বিস্ফোরণে ট্রাফিক পুলিশের এএসআই রাশেদা আক্তার (২৮) এবং রাস্তায় থাকা রিকশাচালক লাল মিয়া (৫০) আহত হন।
দুই ঘটনাতেই জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের নামে দায় স্বীকারের বার্তা দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে আইএসের দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়, এদেশের কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে।


