চীফ রিপোর্টারঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর একমাত্র কাজ হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি টেকসই দেশ হিসেবে গড়ে তোলা এবং এদেশের জনগণকে উন্নত জীবন প্রদান করা।
গত ৩ জুলাই বেইজিংয়ে চীনের সিজিটিএন চ্যানেলের রিপোর্টার লিউ ইয়াংকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘একমাত্র আমার বোন ছাড়া আমি পরিবারের সবাইকে হারিয়েছি। কিন্তু জনগণ এখন আমার প্রকৃত পরিবার। তারা আমার খুব ঘনিষ্ঠ। তাই আমি মনে করি আমার একমাত্র কাজ হচ্ছে আমার জনগণকে উন্নত জীবন প্রদান করা। দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত সমৃদ্ধ জীবন প্রদান করা।’
তিনি বলেন, ‘আমার লক্ষ্য হচ্ছে আমার পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে একটি টেকসই দেশ হিসেবে গড়ে তোলা।’ ১-৬ জুলাই চীনে দ্বিপক্ষীয় সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সিজিটিএনকে (চাইনিজ গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক) এ সাক্ষাৎকার দেন।
রিপোর্টার যখন প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনি তো বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয় এবং আপনি একজন ক্ষমতাধর নারী।’
প্রধানমন্ত্রীর বিনয়ী জবাব, ‘আমি অনুভব করি আমাকে জনগণের সেবা করতে হবে। অবশ্যই তারা আমাকে ভালোবাসে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা কি করতে চেয়েছিলেন, তা যখনই ভাবি তখনই আমি তাঁর ডায়রী পড়ি। এটি আমার অনুপ্রেরণা। আমার বাবা সব সময় জনগণের কথা ভাবতেন। কারণ তারা ছিল খুবই গরীব। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যতার মধ্যে বসবাস করতো। আমার বাবা এ সব মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।’
প্রধানমন্ত্রী এসময় আরো বলেন, ‘আমার বাবা জানতেন কিভাবে জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আমাদের শৈশব থেকেই তিনি সব সময় আমাদের বলতেন, জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এবং তিনি তাদেরকে উন্নত জীবন প্রদান করতে চান। আমরা তাঁর কাছ থেকে দেশ ও জনগণকে ভালোবাসতে এবং দায়িত্বশীলতা শিখেছি।’
জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁকে জনগণের জন্য কাজ করতে এবং তাদের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে বলতেন। ‘আপনি যখন কিছু করেন এবং জনগণ এতে সন্তুষ্ট হয় তখন সেটি আসলে গুরুত্বপূর্ণ। চীন সেটা দেখিয়েছে। আমি এখানে এসে খুবই আনন্দিত। চীনের জনগণকে আমি অভিনন্দন জানাই।’
সদ্য সমাপ্ত ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক বৈঠক সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমি মনে করি বর্তমান সময় এ কর্মসূচি ফলপ্রসূ হয়েছে। আমাদের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আমার সঙ্গে এখানে এসেছে। আমি জানতে পেরেছি তারা বেশ কিছু নতুন ধারণা পেয়েছে।’ এখন পৃথিবীটা গ্লোবাল ভিলেজ তথা পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত একটি গ্রামে পরিণত হয়েছে। এখানে কেউ একা চলতে পারে না। আমাদের জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণ আর জীবনমান উন্নয়ন করতে আমি সব সময় আঞ্চলিক সংযোগকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি।’


