29.2 C
Munich
Tuesday, May 26, 2026

খুলনায় পাকা ঘর পেয়ে পূর্ণিমার মুখে হাসি

Must read

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে ‘সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিতকরণ’ প্রকল্পের আওতায় পাকা ঘরে বসবাসের সুযোগ পেয়ে জেলার চার হাজার ছিন্নমূল পরিবারে ফুটেছে সুখের হাসি।
সিডর-আইলার মত ঘুর্ণীঝড় আর জলোচ্ছ্বাসের সময় যখন বিত্তবানেরা নিশ্চিন্তে ঘুমায়। তখন এ সব পরিবারের লোকেরা মাথা গোজার ঠাঁই খুঁজতে অন্যের বাড়ির বারান্দা, গোয়াল ঘর বা স্কুল কলেজে প্রবেশ করে। প্রলয়ংকরী ঘুর্ণীঝড়ে ছিন্ন ভিন্ন করে নিয়ে যায় তাদের অতিকষ্টের মাথা গোজার ঠাঁইটুকু। পাকা ঘর পেয়ে তাই উপকূল অঞ্চলের অসহায় মানুষেরা মহাখুশি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দশটি বিশেষ উদ্যোগ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে খুলনা জেলার ৪ হাজার পরিবারে এনে দিয়েছে বিশেষ সাফল্য। পাকা ঘরে উঠে ছিন্নমূল পরিবারের মানুষগুলো তাদের সন্তানদের নিয়ে এখন সুখের হাসি হাসছে। প্রতিটি ঘর তৈরীতে ব্যয় হয়েছে এক লাখ টাকা। মেঝে পাকা, ইটের দেয়াল আর টিনের ছাউনি দেয়া ঘরে তারা স্বাচ্ছন্দে বাস করছেন। সাথে বাথরুমও রয়েছে।
সূত্রমতে, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থ গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বরাদ্দ দেয়া হয়। ঘর তৈরীতে মোট ব্যয় ধরা হয় ৩৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
ঘর বরাদ্দ পাওয়া বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামের ফিরোজা বেগম, নাছিমা বেগম, জলমার ডলি পাল, নিপু শিকদার, কিসমত ফুলতলা গ্রামের জিয়া শেখ, হেতালবুনিয়ার আজিজুল ইসলাম, আসমা বেগম, আমীরপুর গ্রামের পূর্ণিমা পালসহ অনেকেই বলেন, ঝড়-বাতাসের তান্ডব থেকে রেহাই পেয়ে এবার নিরাপদে বসবাস করার স্বপ্ন দেখছি। প্রতি বছর ঝড়ে এক টুকরো খড়ের ঘর উড়িয়ে নিয়ে যায়। আবার ধার দেনা করে ঘর তুলতে হয়। সরকার থেকে পাকা ঘর দেয়ায় এবার সে চিন্তা দূর হয়েছে। তারা বলেন, ঘর তৈরীর জন্য ঠিকাদার কাজ শুরু করলেও মিস্ত্রিদের থাকা খাওয়ার কিছুটা সহায়তা দেয়ায় তারা সুন্দর করে ঘর তৈরী করে দিয়েছে। মোট দু’হাজার ছয়শ’ পিছ ইট, ১৩ বস্তা সিমেন্ট, ২৮ পিছ ঢেউটিন ঘর তৈরীতে ব্যবহার হয়েছে।
পূির্ণমা পাল বলেন, আইলার সময় পাশের বাড়ির বারান্দায় গিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে গিয়ে দেখি খড়ের ঘরখানা পড়ে মাটিতে গুড়িয়ে গেছে। পরে বহু কষ্টে আবার তুলে ছিলাম। কিন্তু পরের বছর ঘুর্ণীঝড়ে আবারও পড়ে যায়। ঝড় বৃষ্টি হলেই ঘরের নিচে থাকতে সাহস হতো না। এবার পাকা ঘর পেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছি। এক মাত্র শিশু সন্তানটির জন্য একটা পাকা ঘরতো রেখে যেতে পারব।
বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, সব ঘর হস্তান্তর কাজ শেষ হলে স্বাভাবিক ঝড় বৃষ্টিতে ছিন্নমূল এসব মানুষ নিশ্চিন্তে বাস করতে পারবে। ঘর পেয়ে তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, ঘর নির্মাণ শেষে অসহায় মানুষের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। উপকারভোগীরা পাকা ঘর পেয়ে খুবই খুশি। শিগগিরই সকল উপকারভোগীরাই তাদের ঘরে উঠে যাবে।
খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, পাঁচজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক প্রকল্পের কাজ তদারকি করছেন। নির্মিত সব ঘরই উপকারভোগীরা আনন্দের সাথে গ্রহণ করতে শুরু করেছে।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article