সুমন ভৌমিকঃ সবার জীবনে প্রেম থাকে। থাকে প্রেমের ইতিহাস। সেই প্রেম কাহিনী প্রেমের মতো। ব্যক্তিগত প্রেম কখনও মানুষের কাছে হয়ে যায় স্মরণীয়। এক উল্লেখযোগ্য জলন্ত প্রেম কাহিনী।
পৃথিবীর ইতিহাস মানব প্রেমের খন্ড খন্ড অধ্যায়ে ভরপুর। কোন কোন প্রেম থেকে যায় অলিখিত। কোন প্রেম যাপিত জীবনের বিশেষ দ্রষ্ট্রব্য। কোন প্রেম নীরবে নিভৃতে বয়ে চলে । জীবনের স্বাভাবিক কাহিনীতে থাকে প্রেমের নির্যাস। কেউ জানে কেউ জানে না।
কোথাও প্রেমের তাজমহল বিশ^জনীন আবেদন রাখে। হয়ে যায় স্মৃতির দৃষ্ট্রান্ত। এমনও প্রেম থাকে যা রাজা-বাদশা-রাণী-সম্রাজ্ঞী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের হৃদয় বৃত্তিতে উজ্জ্বলতা দেয়।
রাজনীতির মানুষগুলোর কাছে প্রেম হলো আদর্শ। দেশপ্রেম তার কাছে মুখ্য। মানুষকে ভালবেসে সেই প্রেম জনগণকে দেয় মানবিকতা। আবার রাজনীতিবিদদের প্রেম শুধু দেশ-জনতা-কালের মধ্যে আবর্তিত থাকে না। যে ভালোবাসে মানুষ, যে পায় মানুষের ভালোবাসা। সে জনপ্রিয়তায় আচ্ছন্ন হয়।
আবার তার ব্যক্তি জীবনের প্রেম-কখনও তার বর্ণনাতীত। সেখানে সীমবদ্ধতার শেষ থাকে না। থাকে প্রেমিক জীবনের আবেদন।
ময়মনসিংহের রাজনীতিবিদ টজু! রাজনৈতিক অঙ্গণে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ভালোবাসেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, তার রাজনৈতিক প্লাটফর্ম আওয়ামী লীগ। ময়মনসিংহ তার কাছে রাজনীতির পটভূমি। রাজনৈতিক জীবন মানে নানা ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-ওতরাই, উত্থান-পতন, সাফল্যে-ব্যর্থতার সমীকরণ। কিন্তু প্রেমের জীবনে সে এক নিজস্ব ভূবন।
এডভোকেট সাদিক খান মিল্কী টজু, ময়মনসিংহ শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সহ-সভাপতি। যার রাজনীতি মানুষের জন্য।
সেই নেতার সাম্প্রতিক অবস্থান রাজনীতি থেকে দূরে, তিনি এখন সময় দিচ্ছেন নিজ প্রেমকে। যা তার রাজনৈতিক সহকর্র্মীরা জানেন। শুধু জানেন না, সমর্থনও করেন। সময়টা রাজনীতির সাথে প্রেমের দন্ধ নেই। আছে শুধু ভালোবাসা। প্রতিমুহূর্তে লোকজন দোয়া করছে, খোজ-খবর রাখছে। এখানে রাজনীতির চেয়ে প্রেম বড়।
টজু-হোসনা’র প্রেম। তাদের দাম্পত্য জীবনের প্রেম বর্তমান কাহিনী করুণ। যেখানে অসুস্থ স্ত্রী হোসনা’র প্রতি স্বামীর এডভোকেট সাদিক খান মিল্কী টজুর নিরবিচ্ছিন্ন মনোযোগ ও সার্বক্ষণিক পাশে থাকা এবং দায়িত্বশীলতা উদাহরণ হয়ে জনমনে আবেগ ও আকর্ষন সঞ্চার করেছে।
৩৭ বছরের দাম্পত্যজীবন। শুরুটা প্রায় অর্ধযুগের প্রেমের। প্রায় ৪ দশকের সেই প্রেম। যা ছিলো এক দাম্পত্য জীবনের নিভৃত অধ্যায়, এখন তা জীবনের গল্প। এডভোকেট টজুর স্ত্রী আসমা-উল হোসনা অসুুস্থ। গত ১ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি অসুস্থ। তার ২টি কিডনীই বিকল। চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীর ফরটিক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন হোসনা। আজ ২৩ সেপ্টেম্বর তার কিডনী ট্রান্সফারের কথা রয়েছে। আর এই মুহূর্তে স্ত্রীর পাশে আছেন টজু।
২০১৮ সালের ২৪ আগষ্ট স্ত্রী হোসনা অসুস্থতাবোধ করেন। চিকিৎসকরা জানান কিডনীর সমস্যাটা জটিল পর্যায়ে রয়েছে। পরদিন ২৫ আগষ্ট হোসনাকে নিয়ে ঢাকায় যান এডভোকেট টজু।
সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল হাসপাতালে টানা ৫৫দিন চিকিৎসা চলে। রোগীর অবস্থা ছিলো জটিল। ২বার লাইফ সাপোর্ট-এ ছিলেন আসমা-উল হোসনা। স্বামী এডভোকেট টজু এক পলকের জন্য দূরে সরে যাননি। তিনি স্ত্রীর রোগশয্যা পাশেই সার্বক্ষণিক অবস্থান নেন। মাঝে রোগীর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎকরা জানান উন্নত চিকিৎসায় কিডনী প্রতিস্থাপন করা জরুরী।
এডভোকেট টজু প্রস্তুতি নেন, স্ত্রীকে দিল্লীতে নিয়ে যান। এর আগে তিনি অন্তবর্তীকালীন রাজনীতিতেও অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ এর জন্য তার কার্যালয়ে জেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে তিনিও যান এবং বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী এডভোকেট টজু’র স্ত্রী হোসনা অসুস্থ জেনে তিনি বলেন, হোসনা’র চিকিৎকার ব্যবস্থা করে দিবেন কিন্তু তিনি সেই সুবিধা নেননি।
১৯৮২ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিয়ে হয় এডভোকেট টজু ও হোসনা’র। দাম্পত্য জীবনে তারা এক কন্যা সন্তানের জনক-জননী। হোসনা’র প্রেমে পড়েন টজু। বিয়ের সময় অনার্সে পড়তেন হোসনা। আর টজু গ্রেজিয়েশন কমপ্লিট করেছিলেন। বিয়ের পূর্বে শুরু হওয়া প্রেম আজও তেমনি আছে। ৪ দশকের প্রেম জীবনে কোন ছন্দপতন হয়নি। অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে গত ১১ জুলাই/১৯ থেকে দিল্লীতে আছেন এডভোকেট টজু। প্রিয়তমা স্ত্রীর কিডনী প্রতিস্থাপন হতে যাচ্ছে । সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।


