10.7 C
Munich
Wednesday, June 10, 2026

চামড়া শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে টাস্কফোর্স গঠন করা হবে : শিল্পমন্ত্রী

Must read

রফতানি বাজারে বাংলাদেশি চামড়া শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

তিনি বলেন, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এটি গঠন করা হবে। এ টাস্কফোর্স প্রতি সপ্তাহে চামড়া শিল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে এর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ‘চামড়া শিল্পনগরী, ঢাকায় ট্যানারী কারখানার চামড়া উৎপাদন পরিস্থিতি ও টেকসই উন্নয়নে প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) এবং লেদার সেক্টর বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (এলএসবিপিসি) যৌথভাবে সেমিনারের আয়োজন করে।

বিটিএ’র চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মোঃ আবুল কালাম আজাদ এবং শিল্পসচিব মো. আবদুল হালিম।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. এ.কে.এম রফিক আহমেদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ( সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য সুলতান আহমেদ ইকবাল, বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম, চামড়া শিল্প উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবু তাহের ও টিপু সুলতান আলোচনায় অংশ নেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম. আবু ইউসুফ।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, সম্পূর্ণ দেশিয় কাঁচামাল নির্ভর চামড়া শিল্পের অপার সম্ভাবনা থাকলেও এখনও তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ইতোমধ্যে হাজারীবাগ থেকে সাভারের পরিবেশবান্ধব শিল্পনগরীতে ট্যানারী স্থানান্তরে সক্ষম হয়েছে। চামড়া শিল্পনগরীতে সিইটিপি স্থাপন, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্তের আলোকে অবশিষ্ট কাজগুলোও বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে টিমওয়ার্কের ভিত্তিতে কাজ করছে। অচিরেই চামড়া শিল্পখাতে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চামড়া শিল্পখাতে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, এ অগ্রগতির ধারাকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে, পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্য রফতানির বিশাল সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এজন্য টাস্কফোর্স গঠনের পাশাপাশি দেশিয় চামড়া কাজে লাগাতে রাজশাহী ও চট্টগ্রামে দু’টি চামড়া শিল্পনগরী স্থাপনের বিষয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি চামড়া শিল্পখাতে বহুমুখী পণ্য উৎপাদন এবং রফতানি প্রবৃদ্ধির জন্য দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

শিল্পসচিব আবদুল হালিম বলেন, দেশিয় ট্যানারী শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী গড়ে তুলতে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় ও বিসিক চামড়া শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। চামড়া শিল্পের উন্নয়নে ইতোমধ্যে একটি নীতিমালা তৈরি করে তা মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সিইটিপি পরিচালনার জন্য একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। এ কোম্পানি পরিচালনায় কোনো ধরণের কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হলে শিল্প মন্ত্রণালয় তা দিতে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।

সেমিনারের অন্য আলোকরা বলেন, বাংলাদেশের চামড়া শিল্পখাতে শতকরা ৬০ ভাগ মূল্য সংযোজনের সুযোগ থাকলেও দেশিয় চামড়াজাত পণ্যের অনুকূলে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের ছাড়পত্র না থাকায় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে। তারা এ সনদ অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী সিইটিপি পূর্ণমাত্রায় সচলকরণের তাগিদ দেন। একই সাথে তাঁরা ট্যানারী মালিকদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত প্লট রেজিস্ট্রেশন, ট্যানারি সংশ্লিষ্ট কেমিক্যাল আমদানিতে কর অবকাশ সুবিধা প্রদান, কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে ট্যানারী মালিকদের ৫ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান, ট্যানারী শ্রমিকদের জন্য আবাসন ও পরিবহণ সুবিধা নিশ্চিতকরণ, বর্জ্য পরিশোধন এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করেন।

আলোচকরা পরিবেশগত কমপ্লায়েন্ট মেনে চলা ট্যানারী মালিকদের প্রণোদনার পাশাপাশি দূষণকারী ট্যানারীর ওপর পল্যুশন ট্যাক্স ধার্য্য করার পরামর্শ দেন।

বিটিএ চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ বলেন, বর্তমানে বিশ্ববাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ২২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার থাকলেও বাংলাদেশ এখাতে মাত্র ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করে থাকে। বাংলাদেশ এ শিল্পের কাঁচামালে সমৃদ্ধ উল্লেখ করে তারা রপ্তানি বাড়াতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী চামড়া শিল্পের উন্নয়নের তাগিদ দেন। এর মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যেই চামড়া শিল্পখাতে ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানির পাশাপাশি এ শিল্পখাতে ৫০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article